kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ

আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

পুলিশ বলছে সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত

সিলেট অফিস   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

সিলেট এমসি কলেজে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে ছয় আসামিকে সরাসরি ধর্ষণে অভিযুক্ত করা হয়েছে; বাকি দুজন সহায়তাকারী। এ ছাড়া এই আটজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী তরুণীকে মারধর করাসহ ছিনতাইয়ের অভিযোগে করা আরেক মামলায়ও অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে তাঁরা হলেন সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, অর্জুন লস্কর, মো. আইনুদ্দিন, মিজবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম। তাঁদের মধ্যে প্রথম ছয়জন ধর্ষণ করেছেন। রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান ধর্ষণে সহায়তা করেন এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করেন। এই আটজনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সবাই কারাগারে আছেন।

এদিকে ঘটনার দিন ধর্ষণের শিকার তরুণীর গলায় থাকা সোনার মালা, কানের দুল এবং দুই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়াসহ তাঁকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায়ও এই আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল আদালতে এ মামলায় পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী (২১)। এ সময় ছাত্রাবাসের আঙিনায় তাঁর স্বামীকে আটকে রাখা হয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী মামলা করেন। এতে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে শাহ রনি ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এজাহারের বাইরে আসামি করা হয় আরো দুই-তিনজনকে। পরে পলাতক থাকা মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব। এর মধ্যে এজাহারে নাম না থাকা মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন ও আইনুদ্দিনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার আটজনকেই কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

গত ১ ও ৩ অক্টোবর—এ দুই দিন এজাহারভুক্ত ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রথমে আদালতে এসে পৌঁছায়। পরে তা তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আসে।

এর আগে গত ২২ নভেম্বর আসামি সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ঘটনার দিন রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের দখলে থাকা কক্ষে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে। এ মামলায় পরে সাইফুরের সঙ্গে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে রনিকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তকালে মোট ৪৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা