kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে ইইউ রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংক। গতকাল বুধবার ঢাকায় একটি হোটেলে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান ‘ডিকাব টকে’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো আসিস বেনিতেজ সালাস, ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াটা, ডাচ রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারভেজ, সুইডিশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডে ও ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত উইনি অ্যাস্ট্রাপ পিটারসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ডিকাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টি ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটি খুবই স্পষ্ট যে তারা (রোহিঙ্গারা) আশ্রয়শিবিরে থাকতে চায় না। বাড়িতে (মিয়ানমারে) ফিরতে চায়। তাদের এ প্রত্যাশা পূরণের পক্ষে আমাদের কাজ করা উচিত। প্রত্যাবাসনই সবচেয়ে ভালো সমাধান। তেমন করছে না বলে ইইউর দিকে আঙুল তোলাটা অর্থহীন। অন্য দেশগুলো কী করছে, তাও দেখতে হবে।’

একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংক বলেন, ‘অবশ্যই, ভৌগোলিকভাবে এটি সহজ নয়। এ অঞ্চলের দিকে তাকান এবং অন্য দেশগুলোর দিকে  তাকান (রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের অবস্থান কী)। ভারত ও চীন এবং আসিয়ানের অনেক দেশের দিকে তাকান।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরো অনেক কিছু করা উচিত। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

জাতিসংঘের কারিগরি ও মানবিক সুরক্ষা দলের সফরের আগেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইইউ রাষ্ট্রদূত কোনো মন্তব্য করেননি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গা সংকট আরো ভালোভাবে সমাধান করা সম্ভব কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। ইইউ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে। সব ব্যবস্থার বিষয়েই ইইউ কাজ করছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত। এটিই হওয়া উচিত আমাদের ‘পথনির্দেশক।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধান উদ্যোগে ইইউ তার ভূমিকা কিভাবে মূল্যায়ন করছে? লোকজন বলে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের চেয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ বেশি। মিয়ানমারের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে। গত তিন বছরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ইইউ কী এমন করেছে—কালের কণ্ঠ’র এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি ইইউ রাষ্ট্রদূত। প্রশ্ন উঠেছিল চীনের ভূমিকা নিয়েও। ইইউ রাষ্ট্রদূত জানান, তিনিসহ ইউরোপীয় অন্য রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করেন। মিয়ানমারে কী ঘটছে, তা বলা তাঁদের জন্য সমীচীন নয়।

বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গাদের বোঝা কমাতে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা এখন এটি নিয়ে ভাবছি না। আমরা ভাবছি প্রত্যাবাসন নিয়ে। কিছু পরিবার, যাদের সঙ্গে তৃতীয় দেশে পারিবারিক যোগসূত্র আছে, তাদের ক্ষেত্রে স্থানান্তরের বিষয়টি হতে পারে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যা করেছে, তা দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের প্রতি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিশ্বাস্য রকমের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’

এভরিথিং বাট আর্মসের (ইবিএ) আওতায় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ঘটার পরও বাংলাদেশ তিন বছর জিএসপি সুবিধার জন্য গ্রেস পিরিয়ড পাবে। জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে এর শর্তগুলো বাংলাদেশকে পূরণ করতে হবে। ইবিএ কোনো ব্ল্যাংক চেক নয়। এ সুবিধা অব্যাহত রাখতে হলে বাংলাদেশকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সনদ মেনে চলতে হবে। বাণিজ্য ইস্যুতে ইইউ ব্যবসার পরিবেশ, শ্রম অধিকার, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধাসহ অনেক কিছুতেই গুরুত্ব দেয়।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির আওতায় প্রায় এক হাজার ৮০০ ‘অনিয়মিত’ বাংলাদেশি ইইউ দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা