kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দেবোত্তর সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদ

নারায়ণগঞ্জে অনশন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেবোত্তর সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও তাঁর পরিবারের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা ও হুমকির প্রতিবাদে গতকাল প্রতীকী অনশন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা ও হুমকির প্রতিবাদে প্রতীকী অনশন করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বীর ব্যানারে গতকাল বুধবার দুপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ নগরের শহীদ মিনারের বেদিতে চলে এই অনশন। পরে বিকেলে পানি পান করিয়ে তাঁদের অনশন ভাঙান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন মিয়া।

এদিকে অনশন কর্মসূচিতে সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করতে সেখানে হাজির হন সিটি করপোরেশনের প্রায় দেড় ডজন কাউন্সিলর, জাতীয়ভিত্তিক চারটি ব্যবসায়ী  সংগঠনের নেতা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আইনজীবী সমিতি, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, ছয়টি সাংবাদিক সংগঠন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি, জেলা ও মহানগর জাসদ, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এর আগে গতকাল দুপুরের আগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমবেত হতে থাকেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, হিন্দু সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে মেয়র আইভী দলকে কলঙ্কিত করেছেন। তিনি ভুলে গেছেন আওয়ামী লীগ জনতার আর  জনতার শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেয়র আইভীকে অবশ্যই জনতার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

কর্মসূচিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, ‘কষ্ট হয় যখন দেখি আমাদের সরকারের আমলে আমাদেরই দলের মেয়র আইভী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠে।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। হিন্দু আইনেও দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। আমরা জেলা আইনজীবী সমিতি সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ধর্মীয় উপাসনালয়ের সম্পত্তি হরণের অপচেষ্টা হলে নিজস্ব উদ্যোগে ও বিনা পয়সায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা দেব।’

মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সানু বলেন, ‘এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থেকে তা প্রতিহত করব। কর্মসূচিতে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল বলেন, যে শহরের জন্ম থেকে কবরস্থান, শ্মশান আর খ্রিস্টানদের সমাধিস্থল একসঙ্গে, সেই শহর অসাম্প্রদায়িকতার স্বাক্ষর বহন করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা দলের আর অসাম্প্রদায়িকতার লেবাস লাগিয়ে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করতে চাইবে, মসজিদ-মাদরাসার সম্পত্তি দখল করতে চাইবে, তারা এই নারায়ণগঞ্জে বসবাসেরই যোগ্য না। তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে এবং অচিরেই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

কর্মসূচিতে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপক কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার জানান, লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরের নিজস্ব সম্পত্তি জিউস পুকুরটি  দখল করতে চাচ্ছে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর পরিবার। সম্পত্তি দখলের জন্য যে নকল দলিল তৈরি করা হয়েছে তাতে মেয়র আইভীর মা, দুই ভাই, মামা, খালাসহ আত্মীয়-স্বজনের নাম রয়েছে। এর বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদী গোবিন্দ ঘোষ ও অন্য হিন্দু নেতাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোটের সময় মেয়র আইভী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে ‘করজোড়ে নমস্কার’ করেন, অথচ তাঁর পরিবারই এই মন্দিরের তথা দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে।

প্রতীকী অনশনে সংহতি জানান নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন কুমার সাহা, হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীস সাহা, লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের সরোজ সাহা ও মাসদাইর শ্মশান কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন কুমার সাহা।

অনশনে উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস, মহানগরের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক নিমাই দে, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা প্রমুখ।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা