kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রথম ধাপের পৌর নির্বাচন

অবাধ্যদের শায়েস্তা করবে বিএনপি

শফিক সাফি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবাধ্যদের শায়েস্তা করবে বিএনপি

আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে ধানের শীষের প্রার্থী এরই মধ্যে বেছে নিয়েছে বিএনপি। এবার প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মানায় দলটিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে। ফলে বেশির ভাগ পৌরসভায় একক প্রার্থী দিতে পেরেছে দলটি। তবে কয়েকটি স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকে ভালো চোখে দেখছেন না নীতিনির্ধারকরা। তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবার প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেটি মেনেই তৃণমূল থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুপারিশ করা ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র শুধু সই করেছে। ফলে প্রতিবারের মতো এবার বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এর পরও যাঁরা বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটি আমরা ভেবে দেখছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা এই মনোনয়নপত্র তৃণমূলের সুপারিশের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র প্রার্থীদের হাতে সম্প্রতি তুলে দেন চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু। বিদ্রোহী প্রার্থী না হওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এর পরও সাত থেকে আটটি স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

দলটির ঘোষিত ২৫ পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম মনিকে। সেখানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মজু বিদ্র্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। একইভাবে পাবনার চাটমোহরে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আরশেদকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেখানে নির্বাচন করবেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান। কুড়িগ্রামে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এখানে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সাহাজুল মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলমের ছোট ভাই ব্যবসায়ী মাহমুদুল আলম লিটন। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে উপজেলা বিএনপির নেতা রেজাউল করিম রাজা মনোনয়ন পেয়েছেন। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন। এ ছাড়া ঢাকার ধামরাইয়ে মনোনয়ন পাওয়া দেওয়ান নাজিম উদ্দিনের মনোনয়ন বৈধ নাও হতে পারে সে শঙ্কায় সেখানে ডামি প্রার্থী (স্বতন্ত্র) রাখা হয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আতিকুর রহমানকে। এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রার্থী শহিদুল্লাহ শহীদ করোনায় আক্রান্ত। এখানে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। ফলে সেখানে কিছুটা সংকটে পড়েছে দলটি।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে প্রার্থী বাছাই করতে বলা হয়েছিল। সেই দিকনির্দেশনা মেনে এবার মনোনয়ন ঠিক করা হয়েছে। যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাঁরা দলের নির্দেশনা অমান্য করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১০ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১১ ডিসেম্বর। এর পরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা