kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রথম ধাপের পৌর নির্বাচন

বিদ্রোহীদের বশে আনবে আ. লীগ

তৈমুর ফারুক তুষার   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 বিদ্রোহীদের বশে আনবে আ. লীগ

প্রথম ধাপে ২৫ পৌরসভার ভোট আগামী ২৮ ডিসেম্বর। সেই নির্বাচনে মেয়র পদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত মঙ্গলবার ছিল নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কমপক্ষে ১০ পৌরসভায় দল মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র পদে লড়াই করার অভিপ্রায় নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ রকম প্রেক্ষাপটে নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে অন্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের চাপ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ‘এখন আমরা বুঝিয়ে-শুনিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না মেনে নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁদের অবশ্যই আমরা বহিষ্কার করব। বিদ্রোহী প্রার্থীরা আগামীতে আর কখনোই দলের মনোনয়ন পাবেন না।’

২৫ পৌরসভার মধ্যে ১১টিতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পৌরসভাগুলো হলো চুয়াডাঙ্গা, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, রাজশাহীর পুঠিয়া, রাজশাহীর কাটাখালী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, বরগুনার বেতাগী, সুনামগঞ্জের দিরাই ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরে দাঁড়াবেন। তবে চার-পাঁচটি পৌরসভায় শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, পাবনার চাটমোহর, কুড়িগ্রাম, রাজশাহীর পুঠিয়া ও কাটাখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থী অনড় থাকার শঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকার সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়া কেন্দ্রীয় নেতারা এরই মধ্যে নানা মাধ্যমে বিদ্রোহীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা যাঁদের মনোনয়ন দিয়েছি তাঁরা ছাড়া অন্য যাঁরা প্রার্থী হবেন তাঁরা আওয়ামী লীগের কেউ নন। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আর কখনোই দলের মনোনয়ন পাবেন না। ফলে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চাইলে তিনি নিজের কপাল নিজেই পুড়বেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আমরা একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। যাঁরা দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না তাঁদের বহিষ্কার করা হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের একজন নেতা বলেন, ‘এখন আমরা বুঝিয়ে বিদ্রোহীদের বাগে আনার চেষ্টা করছি। তবে বুঝিয়ে খুব একটা লাভ হয় না। ফলে শেষ পর্যন্ত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দিকেই আমাদের যেতে হবে। তৃণমূলে আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে অবশ্যই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এবার কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তৃণমূলের সুপারিশ করা তালিকায় নাম থাকা ছাড়া এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কাউকে দেওয়া হয়নি। প্রার্থীদের হিড়িক ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাতেও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় শৃঙ্খলা মজবুত করতে নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের অনুকম্পা না দেখানোর কঠোর অবস্থান জানান।

১১ পৌরসভায় বিদ্রোহী যাঁরা : চুয়াডাঙ্গায় শরীফ হোসেন দুদু, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বর্তমান মেয়র মোশাররফ মিয়া, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একরামুল হক, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী নজরুল ইসলাম, রাজশাহীর কাটাখালীতে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সামা এবং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মোতালেব ও খোকনুজ্জামান মাসুদ, রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টিপু ও যুবলীগ নেতা গোলাম আজম নয়ন, কুড়িগ্রামে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সাজু, পাবনার চাটমোহরে বর্তমান মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, বরগুনার বেতাগীতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মহসীন, পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র সালেক মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজল উদ্দিন তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আতাউর রহমান মাসুক ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম শিপলু।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা