kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ভাসানচরে রোহিঙ্গা নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

কূটনৈতিক সম্প্রদায় অবগত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাসানচরে রোহিঙ্গা নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব প্রস্তুতি স্বাভাবিকভাবে চললে কাল শুক্রবার থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হতে পারে। কক্সবাজারের চেয়ে ভালো পরিবেশ, পরিকল্পিত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার কারণে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে প্রথম দফায় প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হতে পারে।

জানা গেছে, ভাসানচরে স্থানান্তরে আগ্রহীদের কক্সবাজার থেকে কভিড পরীক্ষা করিয়ে বাসে করে আনা হবে চট্টগ্রাম। সেখান থেকে জাহাজে করে তাদের স্থানান্তর করা হবে।

এদিকে জাতিসংঘের বিবৃতিতে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরাসরি কোনো বিরোধিতার কথা স্থান পায়নি। জাতিসংঘ বলেছে, ‘স্থানান্তরের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে, অথবা শরণার্থীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। স্থানান্তরের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’

তবে বাংলাদেশে জাতিসংঘসহ অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে অবগত বলেই জানা গেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য কর্মকর্তা লুইজ ডনোভ্যান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কক্সবাজার থেকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ভাসানচরে প্রারম্ভিক স্থানান্তরের কাজ কিছুদিনের মধ্যে শুরু করার সম্ভাবনাবিষয়ক কিছু প্রতিবেদন সম্পর্কে জাতিসংঘ অবগত।’

ঢাকার একটি হোটেলে গতকাল বুধবার সকালে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা জানতে চান, ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার তাদের জানিয়েছে কি না। জবাবে একজন রাষ্ট্রদূত মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ সূচক প্রতিক্রিয়া জানান। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংক কোনো মন্তব্য করেননি।

জাতিসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গারা যেন প্রাসঙ্গিক, নির্ভুল এবং হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ বরাবরই আহ্বান জানিয়ে এসেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও জাতিসংঘ এই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

ভাসানচরে সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি সরেজমিন দেখাতে সরকার গত সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা নেতাদের একটি প্রতিনিধিকে ওই দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁরা সে সময় দ্বীপের সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘ গতকাল বলেছে, ‘যেসব শরণার্থী ভাসানচরে স্বেচ্ছায় স্থানান্তরিত হতে চাইবেন ওই দ্বীপে তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকার নিশ্চয়তা এবং ওই দ্বীপ থেকে মূল ভূ-খণ্ডে চলাচলের স্বাধীনতাসহ সব মৌলিক অধিকার এবং মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ গুরুত্বারোপ করছে।’

গত রবি ও সোমবার কালের কণ্ঠ’র এই প্রতিনিধি ভাসানচর সরেজমিনে ঘুরে সেখানে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্তত ২২টি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিদের দেখতে পান। তাঁরা বলেছেন, কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরে সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ অনেক সুযোগ রয়েছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জেনোসাইড ঠেকাতে পুরোপুরি ব্যর্থ জাতিসংঘ বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের চলাফেরা ও জীবিকার অধিকার নিয়ে যেভাবে গুরুত্বারোপ করে আসছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। তবে জাতিসংঘ বলেছে, ভাসানচর নিয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। সরকারেরও এ বিষয়ে আপত্তি নেই। বাংলাদেশ মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ারকে ভাসানচরে সরেজমিন পরিদর্শন করিয়েছে।

জাতিসংঘ অবশ্য বলেছে, ‘বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা এবং আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে যে উদারতা এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছে তার জন্য জাতিসংঘ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে যে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে তাতে অংশীদারি বজায় রাখার ব্যাপারে জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে।’

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে ভাসানচরে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা সাময়িকভাবে আশ্রয় পাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা