kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ভাসানচরে সন্তুষ্টি ২২ এনজিওর

শিগগিরই রোহিঙ্গা স্থানান্তর শুরু করতে শতভাগ প্রস্তুত

মেহেদী হাসান, ভাসানচর থেকে ফিরে   

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ভাসানচরে সন্তুষ্টি ২২ এনজিওর

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া দেশি-বিদেশি অন্তত ২২টি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিদল গত রবিবার পৌঁছেছে নোয়াখালীর ভাসানচরে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা সেখানে গেলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে তারা গত সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে।

ভাসানচরের পরিবেশ ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেছে, কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরের পরিবেশের পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল। কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা খুপরি ঘরে গাদাগাদি করে আছে। ভূমিধসের ঝুঁকির পাশাপাশি আছে পানির স্বল্পতা। সেই বিবেচনায় ভাসানচর একটি পরিকল্পিত নগরী। পাকা দালান, খাবার পানি থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য দ্বীপটি শতভাগ প্রস্তুত। আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্পের আওতায় পুরো ভাসানচরকে আধুনিক সুবিধাসংবলিত বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে জানতে চাইলে আশ্রয়ণ-৩-এর উপপ্রকল্প পরিচালক কমান্ডার এম এ কবির জানান, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।

জানা গেছে, প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা প্রথম দফায় কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী। খুব শিগগির ওই স্থানান্তর শুরুর ব্যাপারে জোরালো প্রস্তুতি চলছে। তবে কাউকেই জোর করে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে নেওয়া হবে না।

ভাসানচরে যে ২২টি এনজিও গেছে সেগুলো হলো পালস বাংলাদেশ সোসাইটি, কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ, ফ্রেন্ডশিপ, এসএডাব্লিউএবি, শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, গ্লোবাল উন্নয়ন সেবা সংস্থা, আল-মানসিল ওয়েলফেয়ার, সনি ইন্টারন্যাশনাল, আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন, হেল্প দ্য নিডি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, জনসেবা কেন্দ্র, কারিতাস বাংলাদেশ, সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস), সোশ্যাল এইড, সিডিডি, মুক্তি কক্সবাজার, ভলান্টারি অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, আরটিএম ইন্টারন্যাশনাল, মাল্টি সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল (এমএসআই), আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল (হায়েফা)।

ভাসানচরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কক্সবাজারের প্রকল্প পরিচালক মো. জনাব আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, আবাসনগত দিক থেকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরের ব্যবস্থা অনেক ভালো। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে থাকাটাই সবচেয়ে কঠিন। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও কক্সবাজারে খারাপ।

জনাব আলী বলেন, তাঁদের এনজিও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত। এখানেও ভালো মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, একটি প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি কোনো রোগীকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় কোনো হাসপাতাল বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে পাঠাতে হয়, তখন কী হবে।

আশ্রয়ণ-৩-এর উপপ্রকল্প পরিচালক কমান্ডার এম এ কবির জানান, ভাসানচরে যে ৩০৪ জন রোহিঙ্গা আছে, তাদের একজনকে কিছুদিন আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বার্তা পাঠান চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টার উড়ে ভাসানচরে যেতে সময় লেগেছে ১৮ মিনিট। এরপর চার মিনিটের মতো লেগেছিল রোগীকে নিরাপদে তুলে আবারও রওনা হতে। এভাবেই প্রায় ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টার এনে একজন রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছিল।

এসএডাব্লিউএবির সমন্বয়ক এস এম ইমদাদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভাসানচরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে। রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের সব সুযোগ আছে ভাসানচরে।

জানা গেছে, ভাসানচরে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার আদলে বানানো হয়েছে আধুনিক বাজার। আশপাশের দ্বীপগুলোর কিছু বাসিন্দা এসেও সেখানে দোকান বসিয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। চুক্তি সইয়ের তিন বছর পরও মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিওগুলোর কারণে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়া যাচ্ছে না।

রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। কয়েক মাস আগে সাগর থেকে উদ্ধার করা ৩০৬ জন রোহিঙ্গা বর্তমানে ভাসানচরে আছে। নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশীয় একটি এনজিওর কর্মকর্তা বলেছেন, ভাসানচরে সরেজমিনে গিয়ে দেখার পর তাঁদের কাছে বেশ উন্নত মনে হয়েছে। কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে রোহিঙ্গাদের অন্যত্র স্থানান্তরের কোনো বিকল্প নেই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা