kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিমানবন্দরে ঢিলেঢালা করোনা স্বাস্থ্যবিধি

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে গ্লাভস, ফেস শিল্ড পরছেন না যাত্রীরা, আজ বৈঠক ডেকেছে মন্ত্রণালয়

মাসুদ রুমী   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




বিমানবন্দরে ঢিলেঢালা করোনা স্বাস্থ্যবিধি

করোনা মহামারি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে ঢিলেমি চলছে বিমানবন্দরে। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বালাই নেই। বিশেষত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রীরা হ্যান্ড গ্লাভস, ফেস শিল্ড পরছেন না। এর জন্য কঠোর তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে বিমানবন্দরে এমন ঢিলেমি চলতে থাকলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আরো বেড়ে যাবে। অন্তত ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।

আকাশপথের যাত্রীরা বলছেন, করোনা স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের বিষয়ে কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় তাঁরা হ্যান্ড গ্লাভস ও ফেস শিল্ড বিমান সংস্থা থেকে নিলেও পরছেন না। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ক্ষেত্রেও একই অজুহাত তাঁদের।

গতকাল সোমবার কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসা বিমানযাত্রী ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এসব দেখার কেউ নেই। ফ্লাইট চলাকালেও কেউ কিছু বলছে না। তাই অন্যদের মতো আমিও গ্লাভস, ফেস শিল্ড ফেলে দিয়েছি। এমনকি হেলথ ডিক্লারেশন ফরমও পূরণ করা লাগেনি।’

স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং ২৫ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখার শর্তে গত ১ জুন থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে আসন ফাঁকা রাখার নিয়মটি তুলে নেয় বেবিচক। বিমান সংস্থাগুলো চারটি আসন খালি রেখে সব আসনে যাত্রী নিয়ে চলাচল শুরু করে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্বাস্থ্যবিধির অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা, গ্লাভস ও মাস্কসহ নিরাপত্তাসামগ্রী পরিধান করার কথা ছিল। সব আসন ভর্তি করে ফ্লাইট চালুর পর যাত্রীদের ফেস শিল্ড দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য হেলথ ডিক্লারেশন ফরম পূরণ বাধ্যতামূলক করা হয়। বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষার পর সেটা ওই ফরমে লেখা হবে। উড়োজাহাজে ওঠার আগে দ্বিতীয় দফায় যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা মাপা হবে। তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলেই সংশ্লিষ্ট যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হবে। তবে এসব নির্দেশনা মেনে চলার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হওয়ায় এখন ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ছে। এত ছোট বিমানবন্দরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা কঠিন। তৃতীয় টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটের সংখ্যা খুব বেশি বাড়ালে এখানে সামাজিক দূরত্বের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। আমরা মাস্ক পরিধান শতভাগ নিশ্চিত করছি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীরা কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ না আনলে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে।’ 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব যাত্রী আইল আসনে বসে তাদেরকে ফেস শিল্ড দেওয়া হয়। অনেক যাত্রী মাস্ক নিজেরাই নিয়ে আসে। মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও ফেস শিল্ড বিমান সংস্থাগুলো চেকইন কাউন্টার থেকে সরবরাহ করছে। কিন্তু যাত্রীরা সেগুলো ফ্লাইটে পরছে কি না তা দেখবে বিমান সংস্থা। আমরা ফুট মার্কিং করে দিয়েছি। সেখানে দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রীদের চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব দায়িত্ব আমাদের ওপর না চাপিয়ে যাত্রীদেরও কিছু দায়িত্ব নেওয়া উচিত। ইতিমধ্যে নজরদারিতে লোকবল বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্তসংখ্যক থার্মাল স্ক্যানারসহ নো মাস্ক নো সার্ভিস সাইনেজ দেওয়া হয়েছে।’

নভো এয়ারের সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) এ কে এম মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘অন বোর্ডে আমরা মানতে বাধ্য করছি। কারণ সেখানে শুধু যাত্রীর ঝুঁকি নয়, আমাদের সহকর্মীদেরও ঝুঁকি তৈরি হয়। কাউন্টারসহ বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সামাজিক দূরত্ব মানানো কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা কঠোর হলে যাত্রীরা এটাকে নেতিবাচকভাবে নেন। যাত্রীদের সহায়তা ছাড়া সামাজিক দূরত্ব ও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা কঠিন।’

বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা এয়ারক্রাফটে পাশাপাশি আসনে বসছেন। সব কিছু স্বাভাবিকভাবেই চলবে। তবে সামনে বা পেছনে যেকোনো এক দিকে দুটি করে সারি খালি রাখতে হচ্ছে। কেউ অসুস্থতা বোধ করলে বা কারো মধ্যে করোনা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা গেলে তাকে সেখানে বসাতে বলা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলছে। পুনরায় যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক রয়েছি। আকাশপথে করোনাসংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালনে আগামীকাল মঙ্গলবার (আজ) আমরা সভা ডেকেছি।’

মন্তব্য