kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সিলেটে ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

ডিএনএ টেস্টে চারজনের জড়িত থাকার প্রমাণ

অন্য আসামিরা সহায়তা করেছেন দ্রুতই চার্জশিট

সিলেট অফিস   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিএনএ টেস্টে চারজনের জড়িত থাকার প্রমাণ

সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে ডিএনএ টেস্টে। যে চারজনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে তাঁরা হলেন মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি ও অর্জুন লস্কর। এই চারজনসহ মামলার আট আসামি জেলহাজতে রয়েছেন। অন্যরা এই চারজনকে ধর্ষণে সহায়তা করেছেন। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি উপকমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্যাহ গত রবিবার রাতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। এ ঘটনায় ওই রাতেই ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে পরিচিত সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে শাহ রনি ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এর বাইরে আরো দু-তিনজনকে আসামি করা হয়। মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব। এর মধ্যে এজাহারে নাম না থাকা মিসবাউর রহমান ওরফে রাজন ও আইনুদ্দিনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার আটজনকেই কয়েক দফায় রিমান্ডে নিলে তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত ১ ও ৩ অক্টোবর এজাহারভুক্ত ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আদালত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আসে।

শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য বলেন, ‘তদন্ত শেষ হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। এখন দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ন্যক্কারজনক এ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এগুলোর প্রতিবেদন দাখিল হলেও প্রকাশ হয়নি। এ ছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশে সিলেটের জেলা ও দায়রা জজকে প্রধান করে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির পক্ষ থেকে গত ১৬ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ২০ অক্টোবর শুনানি শেষে প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

তবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও গত ১২ অক্টোবর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের ছাত্রত্ব বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া চার শিক্ষার্থী হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। ছাত্রত্ব বাতিলের পাশাপাশি তাঁদের স্থায়ীভাবে এমসি কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

 

মন্তব্য