kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এইডস আক্রান্ত মায়ের কোলে সুস্থ সন্তান

তৌফিক মারুফ   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এইডস আক্রান্ত মায়ের কোলে সুস্থ সন্তান

নিজের জীবনের কথা ভেবে ভয়ে বুক শুকিয়ে গিয়েছিল। সেই বুক ভরেছে আজ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে। এইডসে আক্রান্ত একজন মায়ের কাছে সুস্থ সন্তানের চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে! এই মারণব্যাধিতে আক্রান্ত মায়ের কোলজুড়ে এসেছে এইচআইভিমুক্ত ফুটফুটে শিশু। বিদেশের নয়, এ গল্প বাংলাদেশের এক মায়ের।

সম্প্রতি মা হওয়া এইডসে আক্রান্ত এই নারী গত শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসকরা যখন আমাকে আশ্বাস দিচ্ছিলেন, ভরসা দিয়েছিলেন, আমার ভেতরে থাকা মারণ ভাইরাস আমার সন্তানের দেহে সংক্রমিত না-ও হতে পারে, বিষয়টি স্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল! কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব, আমার সন্তান নিরাপদ, সে এইচআইভিমুক্ত।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মারা গেলেও এখন আর দুঃখ থাকবে না—আমার সন্তানটি তো বেঁচে থাকবে, ওর মধ্যেই থাকব আমি!’

শুধু এই একজন মা-ই নন, দেশে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭৬ জন এইডসে আক্রান্ত মায়ের কোলে এসেছে এইচআইভিমুক্ত সন্তান। অবশ্য এরই মধ্যে এই মায়েদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন।

কিভাবে সম্ভব হলো, জানতে চাইলে জাতীয় এইডস/এইচআইভি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক সামিউল ইসলাম সাদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের একটি কার্যক্রম আছে প্রিভেনশন অব মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি) নামে। এর মাধ্যমে এইডস আক্রান্ত প্রসূতি মায়েদের বিশেষ সেবা দেওয়া হয় কিছু ওষুধ ও পদ্ধতির মাধ্যমে।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে মোট ১৯৩ জন এইচআইভি পজিটিভ মায়ের সন্তান হয়। তাঁদের মধ্যে ১৮১ শিশুকে আমরা ওই ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে সক্ষম হই। ছয় সপ্তাহ পর পরীক্ষা করে দেখতে পাই, ১৭৬ জন শিশু এইচআইভিমুক্ত।’

বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর আগেই বিচ্ছিন্নভাবে এমন দু-একটি ঘটনার উদাহরণ ছিল। এর সূত্র ধরেই পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগে। নবজাতকের এইচআইভিমুক্তকরণের বিষয়টি রীতিমতো আশার আলো হয়ে এসেছে। এই আবহে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস-এইচআইভি দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ে আজ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন রয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সারা বিশ্বের ঐক্য, এইডস প্রতিরোধে সবাই নেব দায়িত্ব।’ বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

অন্যান্য বছরের মতো আজ ঘোষণা করা হবে গত এক বছরে দেশে নতুন কতজন এইডস-এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে এবং কতজনের মৃত্যু ঘটেছে। সর্বশেষ গত বছরের ১ ডিসেম্বরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী,  ১৯৮৯ থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট এইডস-এইচআইভি পজিটিভ ছিল সাত হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে মারা যায় এক হাজার ২৪২ জন। শুধু ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত শনাক্ত ছিল ৯১৯ এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭০।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দেশে আনুমানিক এইচআইভি পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজারের মতো, যা মোট জনসংখ্যার ০.০১ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এইডস নির্মূল করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে দেশে সবচেয়ে বেশি এইচআইভি পজিটিভ রোগী ঢাকায়। এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে শিরায় মাদক গ্রহণকারীরা। এ ছাড়া নারী ও পুরুষ যৌনকর্মী, সমকামী ও হিজড়া জনগোষ্ঠীও ঝুঁকির শীর্ষে রয়েছে। যেকোনো অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে যে কেউ।

 

 

মন্তব্য