kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সবিশেষ

অ্যান্টার্কটিকা গলে ডুববে বহু শহর!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অ্যান্টার্কটিকা গলে ডুববে বহু শহর!

উষ্ণায়নের দরুন মহাসাগর আর সমুদ্রের পানি উত্তরোত্তর যেভাবে গরম হয়ে উঠছে, তাতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আইস শিট আর কয়েক দিন পর হয়তো গলতে শুরু করবে। সম্প্রতি এ আশঙ্কা জানিয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসে (পিনাস)’ একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আইস শিট আছে দক্ষিণ মেরুতে। অ্যান্টার্কটিকায়। নাম ‘ইস্ট অ্যান্টার্কটিক আইস শিট’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এ দৈত্যাকার আইস শিটের উচ্চতা প্রায় তিন হাজার মিটার। এ আইস শিটে এখনো যতটা বরফ রয়েছে, এর আয়তন দুই কোটি ৭০ লাখ ঘন কিলোমিটার। এ বরফ পুরোপুরি গলে গেলে পৃথিবীর সব কয়টি মহাসাগর ও সমুদ্রের পানির স্তর ৫৮ মিটার বা ১৯০ ফুটেরও বেশি উঠে আসবে। ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বহু শহর ও জনপদ, হারিয়ে যাবে বহু দেশ পৃথিবীর মানচিত্র থেকে। তলিয়ে যেতে সময় লাগবে না অনেক মহাদেশেরও বড় অংশের। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, মহাসাগর লাগোয়া পৃথিবীর এই বৃহত্তম আইস শিট গলন উদ্বেগজনকভাবে শুরু হতে হয়তো আর খুব দেরি হবে না। ফলে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে শুরু করে শেষ ভাগ পর্যন্ত মহাসাগর ও সমুদ্রগুলোর পানির স্তর উঠে আসতে পারে কম করেও তিন বা চার ফুট। তা উঠে আসতে পারে ৭-১০ ফুটও।

একটি আন্তর্জাতিক গবেষকদল এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাদের সদ্যঃপ্রকাশিত গবেষণাপত্রে। সেই দলে রয়েছেন জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্থ সায়েন্সের গবেষকরা। রয়েছেন ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী, গবেষকরাও।

কিভাবে এ পূর্বাভাস দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা? সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে সেই ধারণায় পৌঁছতে বিজ্ঞানীরা সময়ের হিসাবে অনেক পেছনে হেঁটেছেন। দেখেছেন, দুই কোটি ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ বছর আগে অ্যান্টার্কটিকা কেমন ছিল? তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ছিল কতটা পরিমাণে?

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, খুব দ্রুত শিল্প আর প্রযুক্তির উন্নতি ঘটাতে গিয়ে, প্রকৃতির ভাঁড়ারে থাকা অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অপব্যবহারের দরুন এখন পৃথিবীর বাতাসে আমরা যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস জমা করেছি, দুই কোটি ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ বছর আগেও আমাদের গ্রহের বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ছিল ঠিক ততটাই। এর কারণটি ছিল অবশ্য ভিন্ন। পৃথিবীর গা তখন পুড়ে যাচ্ছে সৌরকিরণে। বয়সে সূর্য তখন তরুণ। ফলে ওই সময়ও ইস্ট অ্যান্টার্কটিকার এ আইস শিটটি গলে গিয়েছিল উল্লেখযোগ্যভাবে। পরে, আজ থেকে দুই কোটি ৫০ লাখ বছর আগে থেকে যখন ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে শুরু করে পৃথিবী, তখন আবার বরফ জমে গায়েগতরে বাড়িয়ে তোলে পৃথিবীর বৃহত্তম এই আইস শিটকে। একে আর সেভাবে গলতে দেয়নি এত দিন। সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা