kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নতুন ধানে কমছে মোটা চালের দাম

সবজি নেমেছে ৫০ টাকার নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন ধানে কমছে মোটা চালের দাম

বন্যার কারণে দেরিতে আবাদ শুরু হওয়ায় দীর্ঘ তিন মাস ধরে অস্বাভাবিক উচ্চতায় থেকেছে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম। অবশেষে শীতের সবজিতে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। শিম, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমসহ বেশির ভাগ সবজির দামই এখন ৫০ টাকার নিচে।

নতুন আমন ধানের চাল বাজারে আসায় কমছে মোটা চালের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় স্বর্ণা, পাইজামসহ বিভিন্ন জাতের চালের দাম খুচরা পর্যায়ে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কমেছে। তবে চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। দাম কমার তালিকায় রয়েছে ফার্মের মুরগি ও ডিম। আগের সপ্তাহের তুলনায় ডজনে পাঁচ থেকে সাত টাকা কমেছে ডিমে আর মুরগির কেজি কমেছে ১০ টাকা। এ ছাড়া আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডাল, চিনি, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরায় শিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে ২৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ২০০ টাকার ওপরে থাকা কাঁচা মরিচের দাম নেমেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। তবে পাকা টমেটোর দাম এখনো ১০০ টাকা কেজি। চলতি মাসের শুরুতেও যে গোল বেগুনের দাম ছিল ১৪০ টাকা কেজি, এখন তা ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। লম্বা বেগুন মিলছে ৪৫ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া শালগম ৪০ থেকে ৫০, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ ও কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

আলুর বাজার এখনো চড়া। মুলার কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা হলেও গাজরের দাম কিছুটা বাড়তি। এর বাইরেও কিছু সবজি এখনো ৫০ টাকার ওপরে। মুগদা বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বললেন, মূলত এগুলো গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমের সবজি। শীতে আবাদ হয় কম। ফলে বাজারে পাওয়া গেলেও দাম বেশি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম বরবটি গত সপ্তাহের মতোই ৬০ থেকে ৮০, উচ্ছে ৬০ থেকে ৭০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ ও পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শাকের মধ্যে লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা আঁটি। লাউ ও পুঁইশাকের আঁটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। এর পরও ৬৫ থেকে ৭০ টাকার নিচে মিলছে না। আমদানির পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি।

আমনের নতুন চাল রাজধানীর বাজারে এসেছে। ফলে মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে স্বর্ণার মতো মোটা চাল সপ্তাহখানেক আগেও ৪৫ টাকার নিচে পাওয়া যায়নি। এখন ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় মিলছে। পাইজাম ও আটাশ কেজিতে দুই টাকা কমে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো চিকন চালের দাম আগের মতোই ৫৪ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।

মসুর ডালের দামও আগের মতোই বাড়তি। বড় দানার ডাল ৭৫ টাকা ও ছোট দানা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম পাঁচ টাকা কমে ৯০ টাকায় নেমেছে। আকারে কিছুটা ছোট হলে ১৪টা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। সেই হিসাবে ডজন ৮৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা কমে হয়েছে ১২০ টাকা কেজি। গরুর মাংস রয়েছে আগের মতোই ৫৫০ টাকা কেজি।

মাছের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। বড় চিংড়ি ৬০০ থেকে ৬৫০, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৫০, রুই ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের সরবরাহ তেমন না থাকলেও দাম খুব একটা বাড়েনি। মাঝারি আকারের ইলিশ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি। বড় আকারের হলে দাম পড়ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি।

 

মন্তব্য