kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘হিমাগারে’ পুলিশ আইনের খসড়া

ওমর ফারুক   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘হিমাগারে’ পুলিশ আইনের খসড়া

উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৩ বছরে এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ১৫৯ বছর আগে ব্রিটিশদের প্রণয়ন করা পুলিশ আইন সংশোধন হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো খসড়া সংশোধন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন যে খসড়া তৈরি করেছিল, সেটিও এখন ‘হিমাগারে’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে। কয়েকটি মিটিংও হয়েছে। বর্তমানে কী অবস্থায় আছে দেখে বলতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুলিশ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। তখন ‘পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭’ নামে নতুন আইনের খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছিল। ওই সময় একাধিক কমিটি গঠন করেছিল সরকার। কমিটিগুলোর দেওয়া প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তাব তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে পুরনো আইনটি সংশোধন করে একটি খসড়া তৈরি করে পুলিশ সদর দপ্তর। পরে সেখান থেকে প্রস্তাব আকারে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠনো হয়। ওই সময় পুলিশ আইন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। গণমাধ্যমেও একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো আইনের খসড়া পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি কয়েকটি বৈঠক করে। কমিটির বৈঠকগুলোতে পুলিশপ্রধানের বর্তমান পদবি ‘ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ’-এর জায়গায় ‘চিফ অব পুলিশ’ করার বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়। এ ছাড়া খসড়ার আরো কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলার কারণে নতুন আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আর খুব বেশি দূর এগোয়নি বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান।

মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ আইনের খসড়া নিয়ে যখন বৈঠক হয় তখন প্রস্তাবিত আইনের কিছু বিষয় নিয়ে মতানৈক্য তৈরি হয়। পুলিশকে কিভাবে আরো আধুনিক করা যায়, সেসব বিষয়ে কমিটির সদস্যরা মতামত দেন। বদলানো হয় অনেক ধারা। সবাই একমত না হতে পারার কারণে আইনটি নিয়ে আর এগোনো যায়নি।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ১৮৬১ সালে ব্রিটিশরা যখন আইনটি করে, এর আগে সারা দেশে তারা গবেষণা করেছে। এ দেশের মানুষ কী ধরনের অপরাধ করে, কিভাবে শাস্তির বিধান করলে অপরাধ দমন করা যাবে, পুলিশ জনগণের সঙ্গে কী রকম আচরণ করলে পুলিশকে মানবে, পুলিশের কাজে সুবিধা হবে ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করে তারা ওই সময় আইনটি প্রণয়ন করে। সেই আইন করার পর দেড় শ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষের জন্য ওই আইনের উপযোগিতা এখনো রয়েছে বলে কেউ কেউ মত দেন। ফলে নতুন করে অনেক কিছু সংযোজন করলেও শেষ পর্যন্ত সেটি আর আলোর মুখ দেখার পর্যায়ে পৌঁছেনি।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৮৬১ সালে এই উপমহাদেশে প্রথম পুলিশ আইন তৈরি করে।

 

মন্তব্য