kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সবিশেষ

সংসার করার শর্তে খালাস ৪৭ স্বামী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংসার করার শর্তে খালাস ৪৭ স্বামী

সুনামগঞ্জে নির্যাতন, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুকসহ স্বামী-স্ত্রীদের মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রীদের দায়ের করা ৪৭টি মামলায় দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার শর্তে স্বামীদের মুক্তি দিয়েছেন আদালত। এসব মামলায় জেলে ও জামিনে থাকা স্বামীদের এজলাসের সামনে ফুল দিয়ে বরণ করেন স্ত্রীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই ব্যতিক্রমধর্মী রায় দিয়েছেন। এই বিরল রায়ের ফলে  ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছে ৪৭টি পরিবার। মা-বাবার পুনঃসম্পর্কে উত্ফুল্ল ছিল সন্তানরাও। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই স্বামীদের বরণ করেন স্ত্রীরা।

জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে স্বামীদের নানামুখী নির্যাতনের শিকার ৪৭ জন নারী অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এসব মামলায় অনেকেই জেলে ছিলেন। কেউ কেউ বিচারাধীন মামলায় জামিনেও ছিলেন। মামলার কারণে সংসারের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। মা-বাবার কলহের কারণে ছিটকে পড়ে ছোট ছোট সন্তানও। এতে নারীরা আরো অসহায় ও মানবেতর জীবনে পড়েন। স্বামীহীন অবস্থায় সন্তানদের অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েন স্ত্রীরা। সামাজিক লাঞ্ছনার শিকারও হন  তাঁরা। পাশাপাশি সন্তানদের পড়ালেখা ও স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হয়। আদালত এসব মামলা পর্যবেক্ষণ করেন নিবিড়ভাবে। স্বামী ও স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবী ও মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে স্ত্রীদের আবারও বরণ এবং সন্তানদের ভরণপোষণের শর্তে স্বামীদের জামিনের সিদ্ধান্তের কথা জানান আদালত। স্বামীরাও বিষয়টি মেনে নিয়ে আবারও সাংসারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এতে আদালত রায়ে না গিয়ে ৪৭ জন স্বামীকে খালাস দেন।

নিজ স্ত্রীর মামলায় কয়েক মাস জেলে থাকার পর কিছুদিন আগে জামিনে বেরিয়েছেন দুই সন্তানের জনক সুনামগঞ্জের রাধানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম এবং সিলেটের লালাবাজারের এক সন্তানের জনক রুহুল আমিন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়ে আমার ও স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের কারণে সে মামলা করেছিল। এই মামলায় জেল খেটেছি। পরে আমার উপলব্ধি হয়েছে যে এই বিষয়গুলো আমরা পরস্পরের মধ্যে নিষ্পন্ন করতে পারতাম। অবশেষে আদালত আমাদের সেই উপলব্ধি দিয়েছেন। আবারও সংসার জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন। এখন আমি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সুন্দরভাবে চলতে চাই।’

মামলার অন্য আসামি রুহুল আমিন বলেন, ‘আদালত আমাদের আবারও নতুন জীবন দিয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞ। আমি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাকিটা জীবন সুন্দরভাবে কাটাতে চাই।’

সুনামগঞ্জ পাবলিক প্রসিকিউটর নারী ও শিশু অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, ৪৭টি পরিবারকে জোড়া লাগিয়ে দিয়ে আদালত বিরল রায় দিয়েছেন। এর ফলে স্ত্রী ফিরে পেয়েছেন স্বামী, সন্তান ফিরে পেয়েছে বাবা। এতে ভাঙনের মুখে থাকা অনিশ্চিত জীবনে আবারও আশার আলো দেখা দিয়েছে। এতে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা