kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৩৭ টাকা দরে চাল দেবেন না মিল মালিকরা

না দিলে কঠোর ব্যবস্থা : খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও নওগাঁ প্রতিনিধি   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩৭ টাকা দরে চাল দেবেন না মিল মালিকরা

সরকার নির্ধারিত ৩৭ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চালকল (মিল) মালিকরা। উল্টো পাট, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের মতো রাইসমিল সেক্টরেও ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার দাবি তুলেছেন তাঁরা। মিল মালিকরা ধানের সঙ্গে চালের বাজারের দর সমন্বয় করার দাবিও জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে বগুড়ার একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভায় সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি জানান। সরকারি গুদামে ৩৭ টাকা দরে চাল দেওয়ার ব্যাপারে মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তির শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারিত থাকলেও গতকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেননি মিল মালিকরা।

এদিকে গতকাল বিকেলে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং ধান-চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময়সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকারি গুদামে চাল না দিলে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিল মালিকরা বলছেন, গত বোরো মৌসুমে লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। করোনাকালে চালকল মালিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই এবার আর কোনোভাবেই ভর্তুকি বা লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সরকারের বেঁধে দেওয়া ৩৭ টাকা কেজি দরে এই মুহূর্তে চাল সরবরাহ করতে গেলে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে সাত টাকা লোকসান হবে। এ কারণে চলতি মৌসুমে সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহে চুক্তিতে যাচ্ছেন না মিল মালিকরা।

এই মৌসুমে ছয় লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৫০ হাজার  মেট্রিক টন আতপ চাল ও কৃষকদের কাছ থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছিল খাদ্য বিভাগ।

সরকারিভাবে চালের মজুদ ঠিক রাখতে এরই মধ্যে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে নওগাঁর মতবিনিময়সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার আরো বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় প্রকিউরমেন্ট (ক্রয়) নীতিমালা বাস্তবায়ন ও খাদ্যপণ্য মজুদ আইনে পরিবর্তন আনার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, গত ৭ নভেম্বর থেকে ধান এবং ১৫ নভেম্বর থেকে চাল সরকারিভাবে কেনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এখনো কোনো মিল মালিক সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার জন্য চুক্তি করেননি। এরই মধ্যে দেড় লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো চাল আমদানি করা হবে। তবে চাল আমদানির ফলে কৃষকরা ক্ষতির মুখোমুখি হলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় বক্তব্য দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, নওগাঁ জেলা ধান-চাল আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন, বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী, নওগাঁ জেলা চাল মালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার প্রমুখ।

সভার একপর্যায়ে মিল মালিকদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী প্রস্তাব দেন দেশে সরকারিভাবে যে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এবার সেই লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ চাল সরবরাহ করবেন তাঁরা। তবে যদি ধানের দাম কমে, তবে আবারও পর্যায়ক্রমে চাল দেওয়া হবে।

খাদ্যমন্ত্রী তাঁর ওই প্রস্তাব শুনে বলেন, আমি বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দিচ্ছি এটা সম্ভব না।

এদিকে বগুড়ায় বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে এম লায়েক আলী, মোহন পাটোয়ারী, আব্দুল আজিজ, হাজি এরফান আলী, এইচ আর খান পাঠান সাকী, রফিকুল ইসলাম, নাজির হোসেন প্রধান, এ টি এম আমিনুল ইসলাম, আমিনুল হক দুদু, সামছুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

 

মন্তব্য