kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাহসকে পুঁজি করেই সাহসী

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাহসকে পুঁজি করেই সাহসী

রিমা সুলতানা তালিকার ৮২ নম্বরে

কালের কণ্ঠ : বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় বাংলাদেশের যে দুজন নারী স্থান পেয়েছেন, আপনিও একজন, এটা কখন শুনলেন?

রিমা : এইতো আজ (মঙ্গলবার) সকালে শুনেই দৌড়ে মাকে জাপটে ধরেছি। এরপর ছুটে গেছি আমি যাঁর অনুপ্রেরণায় আজ এমন স্থান পেয়েছি, সেই এনজিও জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী শিউলি শর্মা ম্যাডামের কাছে।

 

কালের কণ্ঠ : এত বড় অর্জনে আপনার অনুভূতি কী?

রিমা : অনুভূতি বলতে বুঝি, শুধু আমার যাত্রা শুরু হলো।

 

কালের কণ্ঠ : এই অর্জনের পর নারীদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

রিমা : প্রত্যেক নারীকে সাহসী করে তুলতে আমাদের কাজ করা দরকার। আমি মনে করি, নারীরা সাহসী হলেই তাদের এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। সাহস না থাকায় নারীরা অনেক কিছুতেই পিছিয়ে রয়েছে। নারীরা সাহস করে কিছু না বলায় অনেক সমস্যারও সমাধান হয় না। গ্রামে নারীরা অনেক কষ্টে রয়েছে। তাদের কষ্ট আমাকে পীড়া দেয়। আবার দেখেছি, অনেক প্রতিভাবান নারীর হাতের ভালো কাজ রয়েছে। অনেকেরই রয়েছে অনেক কিছু উদ্ভাবন। কিন্তু এসবের কেউ খোঁজ নেয় না। আমি এসবে কাজ করতে আগ্রহী। আমি চাই, বাংলার একজন নারীও যেন পেছনে পড়ে না থাকে।

 

কালের কণ্ঠ : সমাজকে পরিবর্তন করার কাজ করতে গিয়ে আপনি ১০০ নারীর একজন হিসেবে আজ স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপনি একজন নারী হিসেবে এটা কিভাবে কাজে লাগাতে চান?

রিমা : আমি এ দেশের একজন নাগরিক হয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করি। কেননা আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনই একজন নারী, যিনি অনেক গুণে গুণান্বিত। বিশেষ করে একজন পরিশ্রমী নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি কার্যকলাপ আমার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। আমি উনার (প্রধানমন্ত্রী) মতো পরিশ্রমী হয়ে সমাজ পরিবর্তনের কাজে নিয়োজিত থাকতে চাই।

 

কালের কণ্ঠ : কিভাবে এলেন এই অবস্থানে?

রিমা : আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন নিজেকে বেশ অসহায় মনে হতো। স্কুল পার হওয়ার সময় থেকেই আমার মানসিক অবস্থা পাল্টাতে থাকে। সিদ্ধান্ত নিলাম লড়তে হবে। আমার মা খালেদা বেগম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদা ম্যাডাম ও জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী শিউলি ম্যাডাম সাহস জোগালেন। তাঁদের সাহসকে পুঁজি করে আমিও সাহসী হলাম।

 

কালের কণ্ঠ : কী কাজ করে এত দূর এলেন?

রিমা : আমি জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার বেতনভুক্ত কর্মচারী নই। আমার মতো আরো অনেক নারী রয়েছে। আমরা দল বেঁধে পাড়া-মহল্লা, রোহিঙ্গা শিবিরসহ এনজিওটির নির্ধারিত অফিসে যাই। সেখানে বয়স্ক নারীদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সমাজের ভালো কাজগুলো নিয়ে তাঁদের সঙ্গে শেয়ার করি। বাল্যবিবাহ রোধ ও নারীর সহিংসতা নিয়ে আমরা কাজ করি। নারীরা নানা কাজে কেন পিছিয়ে থাকে সেসব ব্যাপারেও তাদের সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করি। এই যে করোনার একটা বড় ধাক্কা গেল এবং আরেকটা ধাক্কা শুরু হতে চলেছে, সেটা নিয়েও আমি আমার স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার মা-বাবাকে নিয়ে বলুন।

রিমা : আমার বাবা আবদুর রহিম পেশায় কৃষক, মা খালেদা বেগম গৃহিণী।

 

কালের কণ্ঠ : পড়ালেখা নিয়ে বলুন।

রিমা : আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিজে এনজিওতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি টিউশনি করি। তা ছাড়াও রামু উপজেলা সদরে গ্লোবাল ইংলিশ লার্নিং সেন্টার নামের একটি স্পোকেন ইংলিশ প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা