kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গোপনে সৌদিতে নেতানিয়াহু, বৈঠক যুবরাজের সঙ্গে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোপনে সৌদিতে নেতানিয়াহু, বৈঠক যুবরাজের সঙ্গে

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রবিবার গোপনে সৌদি আরব সফর করেছেন। সফরে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সৌদি সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সৌদি আরবের উপকূলীয় নিওম সিটিতে ওই বৈঠকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদপ্রধান ইয়োসি কোহেন উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলের কান পাবলিক রেডিও ও আর্মি রেডিও এসব তথ্য জানিয়েছে।

এ সফরের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় কিংবা ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সৌদি সরকারের তরফ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর সত্যি হলে এটি হবে ঐতিহাসিকভাবে বৈরী দেশ দুটির মধ্যে প্রথম কোনো বৈঠক, যার খবর প্রকাশ্যে এলো। একই সঙ্গে প্রথম কোনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরও বটে এটি।

ইসরায়েলি সরকারের সূত্রের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেত্জ বলছে, এই সফরের ব্যাপারে ইসরায়েলের বিকল্প প্রধানমন্ত্রী,  প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও অন্ধকারে ছিলেন।

হারেত্জ জানিয়েছে, এভিয়েশন ট্র্যাকিং ডাটায় দেখা গেছে, একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান নিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে সৌদি আরবের নিওম শহরে পৌঁছেন নেতানিয়াহু। গত রবিবার সেখানেই যুবরাজ সালমান ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর সাক্ষাতের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো বলছে, নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি দুই ঘণ্টার মতো নিওমে অবস্থান করে। হারেত্জ জানিয়েছে, এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য একাধিকবার এই জেট বিমান ব্যবহার করেন নেতানিয়াহু।

অনেক দিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চেষ্টা করছে যাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টায় গত আগস্ট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেছে। তারা বাণিজ্য চালু করা, নিরাপত্তা ও পর্যটনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা করেছে। ওই সমঝোতাকে প্রতারণা বলে বর্ণনা করেছেন ফিলিস্তিনি নেতারা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনের মতো অন্য আরব দেশগুলোও যাতে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করে, সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, সৌদি আরবসহ আরো বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে। তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে না পারায় এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যেই সৌদি সফরে গিয়ে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হলেন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনে রিয়াদের সম্মতি আছে। তবে এর আগে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ চুক্তি হতে হবে।

গত মাসে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে ইসরায়েলের সঙ্গে রিয়াদের স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরির বিষয়টি সৌদি আরব বিবেচনা করবে।’ সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা