kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পরীক্ষামূলক হলেও টিকা ডিসেম্বরে

তৌফিক মারুফ   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পরীক্ষামূলক হলেও টিকা ডিসেম্বরে

আরব আমিরাত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে বসবাসকারী কয়েকজন বাংলাদেশি ট্রায়ালের আওতায় শরীরে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে থাকা কেউ এখনো সরাসরি এই টিকা চোখেও যেমন দেখেননি, তেমনি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের সুযোগও পাননি। তবে কিছুটা সুখবর মিলতে যাচ্ছে খুব দ্রুত। অর্থাৎ ট্রায়ালের জন্যই হোক আর অনুমোদন সাপেক্ষেই হোক, ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে আসতে যাচ্ছে করোনার কোনো না কোনো টিকা—এটা প্রায় নিশ্চিত বলে একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে।

সূত্র বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা এফডিএ কোনো টিকাকে মাসখানেকের মধ্যে অনুমোদন দিলেও কোভ্যাকস হয়ে তা চলতি বছরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছার আশা নেই। অবশ্য যখনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা এফডিএ কোনো টিকা ব্যবহারের উপযোগী বলে ঘোষণা দেবে, তখনই বাংলাদেশের জন্য বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে প্রতিবেশী ভারত। বিশেষ করে, এখন পর্যন্ত যে কয়টি টিকা নিয়ে বেশি আশা-জাগানিয়া অবস্থানে রয়েছে বিশ্ব, এর মধ্যে অন্তত দুটি টিকা এফডিএর অনুমোদনের পরপরই ভারতে প্রয়োগ শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে। আর ভারতের যে প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে সক্রিয়, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও বেসরকারি যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। ফলে সংখ্যায় কম হলেও ভারত থেকে কিছুসংখ্যক টিকা বাংলাদেশে আসবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। সেদিক বিবেচনায় রেখে ডিসেম্বরে কোনো না কোনো টিকা বাংলাদেশে আসবে বলে এখনো বলছে একাধিক সূত্র। এ ক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমেই তা আসতে পারে। এমনকি অনুমোদনের আগে জরুরি ব্যবহার কিংবা ট্রায়ালের আওতায়ও কিছু না কিছু টিকা বাংলাদেশে আসবে এবং দেশের অনন্ত ফ্রন্টলাইনার কিছু মানুষের শরীরে তা প্রয়োগ হবে, এটাও অনেকটাই এখন নিশ্চিত।

বাংলাদেশ ফার্মাকোলজি সোসাইটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা শিগগিরই হয়তো কয়েকটি ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের সুযোগ পেতে যাচ্ছি। সেই সুবাদে আমাদের এখানে কিছু ভ্যাকসিন আসবে। তবে ট্রায়ালে ভুক্ত সবাই যে ভ্যাকসিন পাবে সেটা নয়, অনেকেই ভ্যাকসিন পাবে আর অনেকে প্লাসিবো পাবে। কিন্তু যাদের শরীরে এগুলো প্রয়োগ করা হবে তারা নিজেরা জানবে না যে সে কোনটা পেয়েছে।’

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিদেশি যে কম্পানিরগুলোর টিকা নিয়ে ট্রায়াল হবে সেগুলোর কী পরিমাণ টিকা এখানে আসবে, সেটাও আগে বলা যাবে না। কারণ সবগুলোই ওই কম্পানির বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে ট্রায়াল হচ্ছে তার অংশবিশেষ মাত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের এক গবেষক কালের কণ্ঠকে বলেন, ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই অন্তত একটি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দেশে শুরু হওয়ার অবস্থায় রয়েছে। আগে যেহেতু একাধিক ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে আগাম ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা হয়েছে, এতে কিছুটা ক্ষতিও হয়েছে। তাই এবার অনেকটা রাখঢাক করেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে এরপর জানান দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে একটি বেসরকারি ওষুধ কম্পানির কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, এখন পর্যন্ত যে কয়টি টিকা সর্বোচ্চ সাফল্যের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তার মধ্যে একটি কম্পানি বাণিজ্যিকভাবে টিকা দেশে আনার জন্য খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। ওই কম্পানি আশা করছে, সরকারের কাছ থেকে তারা সময়মতো অনুমোদনও পেয়ে যাবে। কারণ সরকারি মাধ্যমে দেশে টিকা আসতে কিছুটা দেরি হতে পারে প্রক্রিয়াগত কারণেই।

এদিকে বাংলাদেশের নিজস্ব টিকা বলে আশা জাগানো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত উদ্ভাবক আবেদনকারী বলে আলোচনায় উঠে আসা দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস কালের কণ্ঠকে শুনিয়েছে রীতিমতো হতাশার কথা। ওই কম্পানি এরই মধ্যে প্রায় হাল ছেড়ে দেওয়ার পথে তাদের টিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে। এ ক্ষেত্রে তারা একাধারে সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়া এবং আইসিডিডিআরবির কাছ থেকেও আশানুরূপ অগ্রগতি না পাওয়ার অনুযোগ করেছে।

গ্লোব বায়োটেকের গবেষক ড. আসিফ মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছিলাম। আমরা আমাদের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা থাকার বিষয়টি প্রমাণ করেছি। কিন্তু এটি এখন সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায় আমাদের চেয়েও বেশি সরকারের। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমরা সরকারের দিক থেকে এখনো কোনোই উদ্যোগ দেখতে পেলাম না। যদি সরকার আমাদেরকে সহায়তা না করে তবে আমরা কিভাবে এত বড় কাজ শেষ করব?’

ওই গবেষক বলেন, ‘বাকিটা হতাশা তৈরি হচ্ছে আইসিডিডিআরবির কাছ থেকে। তারাও খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কেন এমনটা হচ্ছে তা-ও আমরা জানতে পারছি না। অথচ আমাদের এই ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে সরকারি উদ্যোগ আর ট্রায়ালের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এখন যা অবস্থা দেখছি—তাতে আমরা আর হাল ধরে রাখতে পারব বলে মনে হয় না। যদিও এখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা