kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি

এটিএম সেবা বিঘ্নিত গ্রাহক ভোগান্তিতে

‘সেবা বন্ধ রাখা কোনো সমাধান নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এটিএম সেবা বিঘ্নিত গ্রাহক ভোগান্তিতে

দেশের ব্যাংকিং খাতে আবার সাইবার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এবারও হ্যাকারদের টার্গেট ব্যাংকের এটিএম বুথ ও সুইফট নেটওয়ার্ক। এতে দুর্বল নিরাপত্তার এটিএম বুথগুলো বেশি ঝুঁকিতে আছে। দু-একটি ব্যাংক নিরাপত্তার স্বার্থে এরই মধ্যে গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত এটিএম বুথ বন্ধ রাখা শুরু করেছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাইবার হামলা ঠেকাতে এটিএম বুথ বন্ধ রাখা কোনো সমাধান নয়। কারণ এতে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েন।

এদিকে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে সাইবার হামলার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়ে গতকাল রাতেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন সেবা ও পরিষেবায় তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে সাইবার হামলার ঝুঁকি থাকবে। কখনোই শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত করা যাবে না। তবে বাংলাদেশে যেভাবে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, তাতে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। সাইবার হামলা ঠেকানোর মতো নিরাপত্তাবলয় নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের ব্যাংকগুলোর ওপর নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ ‘বিগল বয়েজ’ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে হ্যাকার গ্রুপটি আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন ও সুইফট নেটওয়ার্কে হ্যাকিং করতে পারে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (আইটি, মেইনটেন্যান্স) মো. জাকির হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ডিজিটাল সেবা বা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিগল বয়েজসহ যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তারা তো আর পৃথিবী থেকে চলে যাবে না, তাদের কার্যক্রম চালাবেই। তারা বিদ্যমান নিরাপত্তা ছেদ করতে বিভিন্ন কায়দায় নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন ও রূপ পরিবর্তন করে। তাই হামলা রোধে সেবা বন্ধ রাখা সমাধান নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাংকগুলোকে কখনোই এটিএম বুথ সেবা বন্ধ রাখার কথা বলিনি। শুধু নিরাপত্তা জোরদার ও সতর্ক থাকার কথা বলেছি, যাতে হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়।’ 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা জারির পরই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো তাদের অনলাইন ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বৃদ্ধি এবং এটিএম বুথে নিরাপত্তা জোরদার করে। রূপালী ব্যাংক রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এটিএম বুথ বন্ধ রাখা শুরু করেছে। আর গতকাল থেকে বেসরকারি ডাচ্-বাংলাসহ কিছু কিছু ব্যাংক নিজেদের উদ্যোগে তাদের এটিএম বুথের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাকের ম্যানেজার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাইবার হামলা নিয়ে সতর্কতা জোরদারের জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে আমাদের মেইল করা হয়েছে। এরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।’

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কা নিয়ে আমরা এখনো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাইবার হামলার আশঙ্কায় গত আগস্ট থেকে ব্যাংকগুলো সতর্কতা অবলম্বন করছে। ওই সময়ও বিগল বয়েজ সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। এ জন্য বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কয়েকটি ব্যাংক আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে টানা এটিএম বুথ সেবা রাত ১১ বা ১২টা থেকে সকাল ৬-৭টা পর্যন্ত বন্ধ রাখছে।

জানা গেছে, এটিএম বুথই হ্যাকারদের বারবার টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, এটিএম বুথে যেকোনো কার্ডহোল্ডার ঢুকতে পারে। অর্থের লেনদেনের ব্যাপারে এত কাছাকাছি আর কিছু নেই। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কেবল এক সোর্স থেকে আরেক সোর্সে টাকা স্থানান্তর করা সম্ভব। কিন্তু এটিএম হলো এমন ব্যবস্থা, যেখানে সরাসরি ভোল্ট থেকে টাকাটা হাতে আসে। দিনে-রাতে যেকোনো সময়ই টাকা উত্তোলন করা সম্ভব। 

এদিকে সুইফট নেটওয়ার্কে হামলার আশঙ্কা করা হলেও এই নেটওয়ার্ক এখন অনেক বেশি সুরক্ষিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা জানান, সুইফট নেটওয়ার্কে কেউ এখন আর নরমাল ইন্টারনেট ব্যবহার করে না। তাই এই নেটওয়ার্ক ছেদ করে হামলার ঝুঁকি শূন্যে নেমে এসেছে। তবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও এটিএমের ক্ষেত্রে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ছোট ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও হামলার ঝুঁকি আছে বলেও জানান তাঁরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা