kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ

শৃঙ্খলা না ফেরালে পদ হারাবেন জেলা সভাপতি ও সম্পাদক

তৈমুর ফারুক তুষার   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শৃঙ্খলা না ফেরালে পদ হারাবেন জেলা সভাপতি ও সম্পাদক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর নীতি নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে সংগঠন গোছানোর কাজে মন না দিলে পদ হারাবেন সংশ্লিষ্ট শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সে ক্ষেত্রে ওই শাখার সহসভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হবে। এরই মধ্যে দুটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরো তিন-চারটি জেলা ও মহানগরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মানলে সেখানেও শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা জানান, টানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূলে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে কোন্দল বেড়েছে। রাজপথে বিরোধী দলের কর্মসূচি না থাকায় সংগঠন চাঙ্গা করার কার্যক্রমেও ভাটা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন সময়ে দেশের আট বিভাগের অন্তত ১০-১২টি জেলা ও মহানগরকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন। তার পরও ওই সব জেলা-মহানগরে বিবাদ মেটেনি। এমন বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ জেলা ও মহানগরের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুসারেই গতকাল রবিবার সিরাজগঞ্জ ও গত বৃহস্পতিবার নরসিংদী জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলার শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে দেওয়াটা আমাদের কঠোর নীতির দৃষ্টান্ত। একইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপকর্মকারী নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফেরাতেই এমন অবস্থান।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘যাঁরা সংগঠনকে গতিশীল করতে পারেন না তাঁদের নেতৃত্বে রাখলে আওয়ামী লীগ স্থবির দলে পরিণত হবে। সাংগঠনিক স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে দলের সুনাম ও সাংগঠনিক কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নরসিংদী বা সিরাজগঞ্জের মতো পরিস্থিতি অন্য কোথাও থাকলে সেখানেও নির্দিষ্ট সময় পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগে আর কেউ অপরিহার্য নন। আমরা যারাই যে পর্যায়ে দলের দায়িত্বে আছি, তাদের প্রত্যেকের উচিত যথাযথ সম্মান, মর্যাদা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা। নেতাদের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারীদের দমনের মনোবৃত্তি ছেড়ে তাদেরকে সংগঠনে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিলে নেতৃত্ব অধিকতর বিকশিত ও ত্রুটিমুক্ত হবে।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, শনিবার সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতেই গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আব্দুল লতিফ ওই সংঘর্ষে লিপ্ত একটি পক্ষ আবদুল লতিফ বিশ্বাসের মদদপুষ্ট। কিছুদিন আগে হাবিবে মিল্লাতের অনুসারীদের সঙ্গে অন্য পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে জেলার দুই শীর্ষ নেতাকে সতর্কও করা হয়। এর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স্থবিরতার বিষয়টি আলোচনা হয়। বৈঠকে একজন নেতা জানান, জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরস্পর কথা পর্যন্ত বলেন না। ফলে সেখানে কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করা যাচ্ছে না। তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি জেলাটির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমকে বলেন, তাঁদের সঙ্গে চূড়ান্ত কথা বলো। তাঁরা কাজ করতে না চাইলে বাদ দিয়ে দাও।

সূত্র জানায়, বেশ কয়েকটি জেলা ও মহানগর কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে নানা অভিযোগ এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কোন্দলের কারণে কোথাও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য নেতারা বাদ পড়েছেন, কোথাও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিবাদে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থবির, ঢাকা বিভাগের অনেক জেলায় বহু বছর ধরে সম্মেলন করা যাচ্ছে না। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বরগুনাসহ বেশ কয়েকটি জেলা ও মহানগরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এর মধ্যে একাধিক জেলার নেতাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা মেনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে না পারলে এসব জেলার শীর্ষ নেতাদেরও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা