kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাজধানীতে বাসে আগুন

বিএনপিকর্মীরা জড়িত দাবি পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএনপিকর্মীরা জড়িত দাবি পুলিশের

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন চলাকালে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি গাড়ি ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সঙ্গে বিএনপিকর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

তুরাগে নির্বাচনকেন্দ্রের কাছে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, সুমন নামের স্থানীয় এক বিএনপিকর্মী তাঁকে ককটেল নিক্ষেপ করতে ২০০ টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। পল্টনে আয়কর বিভাগের গাড়িতে আগুনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ধরে তদন্তে দেখা গেছে, অগ্নিসংযোগকারীরা যুবদলের মিছিল থেকে এসেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের নামে ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপ থেকেও গাড়িতে যুবদলকর্মীদের অগ্নিসংযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিএনপিকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় মামলা দায়েরের পর কারা, কিভাবে আগুন ধরিয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। কয়েকটি ঘটনায় বাসের পেছনের অংশে গানপাউডার দিয়ে আগুন লাগানোর আলামত মিলেছে। এতে পরিবহন শ্রমিক ও ভাড়াটে লোকজন জড়িত বলে জানায় সূত্র। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর নাশকতার মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহনগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পল্টন থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে ১২ থানায় ১৭টি মামলা দায়ের করা হলো। এসব মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইশরাক হোসেনসহ সাড়ে পাঁচ শ জনকে আসামি করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগের মামলায় এ পর্যন্ত ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জন পুলিশ রিমান্ডে আছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। মতিঝিল, শাহবাগ ও উত্তরা পূর্ব থানায় দুটি করে, পল্টন থানায় তিনটি, বংশাল, কলাবাগান, ভাটারা, তুরাগ ও বিমানবন্দর থানায় একটি করে মামলা হয়।

ডিএমপি সূত্র জানায়, তুরাগ থানায় ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় গ্রেপ্তার সোহেল মিয়াকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, নির্বাচনের দুই দিন আগে স্থানীয় বিএনপিকর্মী সুমন তাঁকে নির্বাচনকেন্দ্রে ককটেল নিক্ষেপ করতে বলেন। এই কাজের জন্য তাঁকে ২০০ টাকা অগ্রিমও দেওয়া হয়।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবারই পল্টনে একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে পুলিশ। ওই ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্য থেকে দুজন গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। শুক্রবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের একটি ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ফোনালাপের একটি অংশে নারীকণ্ঠ বলেন, ‘স্টাফ...পুলিশের স্টাফ গাড়ি থাকে না? এগুলোর মধ্যে আগুন দিছে যুবদলের ছেলেরা।’ এই অডিওর সূত্র ধরে পুলিশ যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে সন্দেহ করছে। প্রতিটি ঘটনায় বিএনপি নেতাদের হুকুমের আসামি করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও আলামত পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, অগ্নিসংযোগের শিকার বাসগুলোতে তিন থেকে ১২ জন যাত্রী ছিল। বাসের দরজায় থাকা হেলপাররা আগেই সটকে পড়েন। এসব ঘটনায় ভাড়াটে অপরাধী ও শ্রমিকদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। নাশকতার ঘটনায় ভাড়াটে অপরাধীরা অংশ নেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ঘটনাস্থলের ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নাশকতাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। জ্ঞািসাবাদেও কারা এই নাশকতা চালিয়েছে, তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা