kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সবিশেষ

‘কথা বলছে’ তিন হাজার বছরের মমি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিসরের তিন হাজার বছরের মমিকে কথা বলতে দেখে চমকে গেছে আপামর জনসাধারণ। কিভাবে সম্ভব এটি? এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন একদল বিজ্ঞানী। তাঁরাই আসলে মমির গলার স্বর নকল করে শুনিয়েছিলেন সবাইকে। সম্প্রতি সায়েন্টিফিক রিপোর্ট সাময়িকীতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। বহু চেষ্টার পর বিজ্ঞানীরা এই প্রথমবার একটি মমির গলার স্বর পুনর্গঠন করতে পেরেছেন বলে এতে দাবি করা হয়েছে।

মেডিক্যাল স্ক্যানার, থ্রিডি প্রিন্টিং, ইলেকট্রনিক ল্যারিংক্সের মতো বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে ওই মমির গলার স্বর পুনর্গঠন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মমিটি মিসরের এক পুরোহিতের। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এত বছরের পুরনো দেহ বলেই গলার স্বর স্বাভাবিকতা বদলে ভূতুড়ে শব্দের মতো শোনাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে লন্ডনের রয়াল হলোওয়ে কলেজের লেকচারার ডেভিড এম হওয়ার্ড বলেন, ‘বর্তমানে মমিটির শারীরিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই গলার স্বর পুনর্গঠন করা হয়েছে। মমিটির জিবের অবস্থা এতটাই ক্ষতবিক্ষত যে এর চেয়ে ভালো শব্দ বের করা সম্ভব ছিল না। পুরো বাক্য বা শব্দ কোনোটাই স্পষ্টভাবে বের করা সম্ভব হয়নি এখনো। অডিও আউটপুটটি তৈরি করতে আমাদের বেশ খাটতে হয়েছে। তবু আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে একদিন পুরো কথাটাই স্পষ্টভাবে শোনা যায়।’

জার্মানির ইউয়ারজবার্গ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের চোখ, নাক, গলার রোগ বিশেষজ্ঞ রুডোলফ হ্যাজেন, যিনি মানুষের পঞ্জরাস্থির গবেষকও, তিনি এই ঘটনায় সংশয় প্রকাশ করেছেন। বুকের পাঁজর না থাকলে কথা কিভাবে বেরোবে, এই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এই সমীক্ষায় যুক্ত বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে এই পরীক্ষা আরো চালিয়ে যাবেন। এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের ঘটনা সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হবে মানুষের মধ্যে। ইতিহাস সম্পর্কে  আগ্রহ তৈরি হবে। মিসরের প্রাচীন মন্দির সম্পর্কেও নতুন করে নানা তথ্য জানা যাবে। সব দিক থেকেই এটি একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা, এর ফলে মমিসংক্রান্ত গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, এমনটাই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র : দ্য ওয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা