kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

মিয়ানমার নির্বাচনের দিকেও বিশ্বের দৃষ্টি

মেহেদী হাসান   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিয়ানমার নির্বাচনের দিকেও বিশ্বের দৃষ্টি

কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়, মিয়ানমারের আগামী ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের দিকেও এখন দৃষ্টি সারা বিশ্বের। রোহিঙ্গাসংকটসহ নানা কারণে চীনের প্রভাব বলয়ে থাকা মিয়ানমারের ওই নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ২০১৫ সালে রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পর এবারের নির্বাচনেও তারা ভোট দিতে পারছে না। এদিকে মিয়ানমারের নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি রাখছে বাংলাদেশও। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ অগ্রগতি চায়। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের নতুন সরকারকে চাপ দেবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া চীন আগামীতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। মিয়ানমারে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।

এদিকে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক যাত্রার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। সাবেক আনান কমিশনের সদস্য ও নেদারল্যান্ডসের সাবেক রাষ্ট্রদূত লেতিশিয়া ফন দ্যান আসম গতকাল শনিবার এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, মিয়ানমারে ২০১৫ সালে ভোট গণতান্ত্রিক স্ফুলিঙ্গের আশা জাগিয়েছিল। আর এবারের নির্বাচন শুধুই তা থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবারের নির্বাচন ২০১৫ সালের মতোও অবাধ হচ্ছে না।

মিয়ানমার বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এবারের নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনে ঝুঁকি অনেক। অং সান সু চির সরকার অনেক ভুল করেছে। গত পাঁচ বছর তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার পরও সেখানে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে যাঁরা ভোট দিয়ে সু চির দল এনএলডিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন তাঁদের আশা ছিল গণতন্ত্র, আইনের শাসনের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে ফল হয়েছে উল্টো।

এদিকে নির্বাচনের আগে গত সপ্তাহে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। তারা মিয়ানমারকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং সংখ্যালঘুসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকের ধারণা, আগের চেয়ে আসন কমলেও সু চির দলই আবার ক্ষমতায় আসবে। এর প্রতিক্রিয়া মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে কী হবে তা নিয়েও নানান ভাবনা আছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমার পরিস্থিতির দিকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই শুধু নয়, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস, সংক্ষেপে আইসিজে) দৃষ্টিও রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে আইসিজে অন্তর্বর্তী আদেশে রোহিঙ্গাদের ‘জেনোসাইড’ থেকে রক্ষা করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়ার বাইরে রাখার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হতে পারে।

এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়া প্রতিষ্ঠান ক্রাইসিস গ্রুপ গতকাল শনিবার বলেছে, আগামী ৮ নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে মিয়ানমারে আরো অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তাই সরকারের উচিত স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হিসেবে নৃগোষ্ঠীভিত্তিক দলগুলোর নেতাদের নিয়োগ দেওয়া। শাসনব্যবস্থায় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ এবং আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্যও মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে ক্রাইসিস গ্রুপ।

অন্যদিকে মিয়ানমারের নির্বাচনের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা কার্টার সেন্টার বলেছে, সামরিক ব্যারাকগুলোতে যে আগাম ভোট হচ্ছে সেখানে নির্বাচন কমিশন গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে পারছে না। শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকার জন্য আলোচিত-সমালোচিত নেত্রী অং সান সু চির ওপর এখনো পশ্চিমা দেশগুলো ভরসা করছে। আগামী সপ্তাহের নির্বাচন ও এর ফল এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ওই দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মিয়ানমারের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা