kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

কটিয়াদীতে তিন খুন : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

দীন ইসলাম একাই হত্যা করেন ভাই ভাবি ভাতিজাকে

৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা ♦ অন্য তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি    

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দীন ইসলাম একাই হত্যা করেন ভাই ভাবি ভাতিজাকে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছোট ভাই দীন ইসলামই বড় ভাই আসাদ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করেছেন। হত্যায় ব্যবহার করেছেন একটি শাবল। পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল শনিবার বিকেলে দীন ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন। এর আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একই তথ্য দিয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কটিয়াদীর বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট গ্রামের ব্যবসায়ী আসাদ মিয়া (৫৫), তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার (৪৫) ও তাঁদের ছেলে লিয়ন মিয়ার (৮) মৃতদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় আসাদ মিয়ার বড় ছেলে তোফাজ্জল কটিয়াদী থানায় দীন ইসলামসহ (৪০) ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে আটক দীন ইসলাম, তাঁর মা জুমেলা খাতুন, বোন নাজমা বেগম ও ভাগ্নে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে দীন ইসলাম ঘটনার বর্ণনায় বলেছেন, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বাড়িতে রান্নারকাজে ব্যস্ত ছিলেন পারভিন বেগম। এ সময় দীন ইসলাম নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে পেছন থেকে ভাবি পারভিনের মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাটি ছোট ছেলে দেখে ফেলায় তাকেও শাবল দিয়ে আঘাত করেন দীন। এভাবে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা করেন। এরপর বড় ভাই আসাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। রাত ১১টার দিকে আসাদ বাড়ি ফিরলে তাঁকেও শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পরে বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে গর্তে ভাই, ভাবি ও ভাতিজার মরদেহ মাটিচাপা দেন। এসব করতে গিয়ে দীনের ভোর হয়ে যায়।

গতকাল কিশোরগঞ্জের ৫ নম্বর আমল গ্রহণকারী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুন নূরের খাসকামরায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন দীন ইসলাম। অন্যদিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার অন্য তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আজ রবিবার আদালতে এ আবেদনের শুনানি হবে।

পুলিশ মনে করছে, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছে দীন ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করে যেভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, বিচারকের সামনেও একই কথা বলেছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, দীন ইসলাম ঘটনাটি ঘটালেও মরদেহ মাটিচাপা দেওয়াসহ অন্যান্য অপরাধে অন্যদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি বলেন, গর্তটি থেকে নিহত আসাদ মিয়া ও পারভিন আক্তারের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুশিশ। হত্যায় ব্যবহৃত শাবলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বনগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিলনসহ স্থানীয়রা বলছেন, দীন ইসলামের একার পক্ষে এত বড় কাজ সম্ভব নয়। এর পেছনে আরো কারোর ‘হাত’ আছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানান তাঁরা।

ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাহাঙ্গীরসহ এলাকাবাসী জানান, দীন ইসলাম বিদেশ যাওয়ার জন্য বড় ভাই আসাদের কাছে বাড়ির অংশ বিক্রি করে দেন। কিন্তু এ টাকা নষ্ট করে ফেলায় তাঁর বিদেশ যাওয়া হয়নি। এরপর থেকে তিনি জমিটি ফেরত দেওয়ার জন্য ভাইকে চাপ দিচ্ছিলেন। এতে আসাদ রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড বিরোধ তৈরি হয়। এ ছাড়া মা জুমেলা খাতুনের একখণ্ড জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসাদের সঙ্গে ভাই-বোনের বিবাদ চরমে পৌঁছে। পুলিশ জানায়, এসবের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।

ঘটনার সময় নিহত আসাদের মেজো ছেলে মোফাজ্জল বাড়ি ছিল না। বড় ছেলে তোফাজ্জল ছিলেন ঢাকায়। মোফাজ্জল বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে মা-বাবা ও ছোট ভাইকে না পেয়ে ঘরে রক্ত দেখতে পায়। রাতে কটিয়াদী থানায় যায়। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাত সাড়ে ১০টায় গর্তটির সন্ধান পায়। শুক্রবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিহত তিনজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে রাতে জামষাইট গ্রামের কবরস্থানে লাশ তিনটি দাফন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা