kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুপাকে দুদকে তলব

জি কে শামীমসহ অন্য আসামিদের জামিনে সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুপাকে দুদকে তলব

বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির জামিন করিয়ে দিতে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক  মোহাম্মদ ইব্রাহিম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাঁকে তলব করা হয়েছে। দুদকের ওই নোটিশে আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় তাঁকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করে জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সঙ্গে আঁতাত করে জামিন করিয়ে দিতে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি, চাহিদা দেওয়া নথিপত্রসহ তাঁকে হাজির হতে অনুরোধ করা হয়েছে। নোটিশটি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ, কক্ষ নং-২০৯ ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

দুদকে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ১২ বছর ধরে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা। ক্যাসিনো সম্পৃক্ত ঠিকাদার জি কে শামীমের হাইকোর্ট বিভাগে জামিন পেতে সহায়তা করে বিপুল ঘুষ গ্রহণ করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগের যে বেঞ্চে জি কে শামীমের জামিন হয়েছে, সেই কোর্টে জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় জি কে শামীম নামের পরিবর্তে এস এম গোলাম কিবরিয়া ছাপানোর ব্যবস্থা করেন তিনি।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চের কার্যতালিকায় জি কে শামীমের জামিনের আবেদনটি ইন রিটেন্ডার নম্বর ৫০৩৪২৫/২০২০ এবং আইটেম নম্বর ৩৩০ হিসেবে আসে। এরপর হাইকোর্ট বিভাগ রুল ও জামিন প্রদান করেন। এমনকি জামিন হওয়ার পর জামিন আদেশ বাতিলের জন্য আপিল বিভাগে আপিল দায়েরের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বিষয়টি প্রায় এক মাস গোপন রাখেন তিনি। এরপর সব মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হলে গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চের সম্পূরক তালিকায় বিষয়টি ক্রিমিনাল  কেস নং-৬২৬৪/২০২০ হিসেবে আসে এবং মহামান্য আদালত রুলটি ডিসচার্জ করে জামিন আদেশটি প্রত্যাহার করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন পদে থেকে আসামিপক্ষের লোকজনের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে রুপা ও তাঁর পরিবার ১২ বছরে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা ও আশপাশে নিজ নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে তাঁর। শাহবাগে একটি বাণিজ্যিক স্পেস কিনে সেখানে অত্যাধুনিক জেন্টস পার্লার গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া নিজ গ্রাম বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার চৌকিগাছী ইউনিয়নের বৈগাতি গ্রামে গড়ে তুলেছেন বিশাল বাগানবাড়ী। আর স্বামীর বাড়িতে তৈরি করেছেন সুরম্য অট্টালিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা