kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ৫ দিন

ফল নির্ধারক হতে পারে তরুণরা

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফল নির্ধারক হতে পারে তরুণরা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রজন্ম চলছে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে তৃতীয় প্রজন্ম। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সাফল্য পাচ্ছে প্রবাসীরা। এমনকি মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। দেশটির নেতৃত্বের পর্যায়ে চলে আসার স্বপ্ন তাদের। তেমনই একজন মাহফুজুল ইসলাম। নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ২৪ থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। এই তরুণ ডেমোক্র্যাট কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবাইকে ভোট দিতে হবে। কেবল ভোট দিলেই হবে না, ভোটের পর নজরও রাখতে হবে।’

শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, রাজনীতি সচেতন তরুণের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখন অনেক বেশি। হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট অব পলিটিকসের এক জরিপ অনুযায়ী, এবার ৬৩ শতাংশ তরুণ ভোটার বলেছেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবে ভোট দিতে যাবেন। ২০১৬ সালে যা ছিল ৪৭ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ ভোটারদের তালিকায় এবার আরো প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন বা প্রায় ৭০ লাখ নতুন তরুণ ভোটার যুক্ত হয়েছেন।

কয়েকটি জরিপ বলছে, তরুণদের সমর্থনে এবার বাইডেন অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থতা, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করা এবং বর্ণবাদের মতো ইস্যুগুলোকে সামনে আনছেন তাঁরা। হার্ভার্ড পাবলিক ওপিনিয়ন প্রজেক্টের জরিপ বলছে, ৬৩ শতাংশ তরুণ ভোট দেবেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনকে। অর্থাৎ তরুণদের বড় অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী। মাত্র ২৫ শতাংশ সমর্থন করে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী এক হাজার ২০৬ জন তরুণের মধ্যে এই জরিপটি চালানো হয়। গত সোমবার জরিপটি প্রকাশ করা হয়।

তবে তরুণদের মধ্যে এই জরিপের চিত্রটিকে বাস্তব মনে করেন না রিপাবলিকান সমর্থকরা। বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান এলায়েন্সের চিফ কো-অর্ডিনেটর মুশতাক চৌধুরী নিজেও বয়সে তরুণ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জরিপে যে বিরাট ব্যবধানের কথা বলা হয়েছে, সেখানেই ত্রুটি রয়েছে। আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমানভাবে এখনো জনপ্রিয়।’

তবে নিউ ইয়র্ক থেকে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থী মৌমিতা আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেখুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তরুণদের জন্য কিছুই করেননি। তিনি বিজ্ঞানকে মানেন না। তাঁকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আর নয়। এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে।’ বয়সে তরুণ মৌমিতা আরো বলেন, ‘আমরা বিদ্বেষহীন সুন্দর একটি আমেরিকার স্বপ্ন দেখি।’

সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্ট—সার্কেল বলছে, এরই মধ্যে বিভিন্ন স্টেটে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়ে ফেলেছে। তার মধ্যে ৩০ লাখের বেশি আবার গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি স্টেটের। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার উইসকনসিনে তরুণ ভোটাররাই গোটা চিত্র বদলে দিতে পারেন। কেননা সেখানে তরুণদের সংখ্যা অনেক বেশি।

এ ছাড়া সম্প্রতি আরেকটি জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশ তরুণ মনে করেন নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তাঁদের। আর ৭৯ শতাংশ বলেছেন, কভিড-১৯ জীবনকে নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে তাঁদের।

জরিপ সংস্থা পলিটিকো বলছে, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর তরুণরা ভোট বেশি দেবেন। তরুণদের নিয়ে কাজ করা ‘রক দ্য ভোট’ ও ‘নেক্সটজেন আমেরিকা’ নামে সংগঠনগুলো জানাচ্ছে, এরই মধ্যে ভোটের দিন ৩ নভেম্বর কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য রেকর্ডসংখ্যক তরুণ নিবন্ধন করেছেন। অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে গত নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশিসংখ্যক তরুণ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

মার্কিন তরুণরা রাজনৈতিকভাবে উদার মনোভাবাপন্ন। জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ এই অংশ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভীষণ সক্রিয়। মর্নিং কনসাল্টের তথ্য মতে, এ বছর মোট ভোটারের ১০ শতাংশই তরুণ। এই তরুণরাই নির্বাচনী ফল নির্ধারণী হয়ে উঠবেন নিঃসন্দেহে। এমনকি তাঁদের ভোট সুইং স্টেট নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে নিশ্চিতভাবে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা