kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু

আকবরকে পালাতে সহায়তা করেন সহকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সিলেট   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আকবরকে পালাতে সহায়তা করেন সহকর্মীরা

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ নিহত হওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভুঁইয়াকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকের গাফিলতিও রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কমিটি তাদের তদন্তে এমন তথ্য পেয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসআই আকবরের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে গঠিত ওই কমিটি গত মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর পুলিশের নির্যাতনে রায়হান নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর ১২ অক্টোবর পালিয়ে যান প্রধান সন্দেহভাজন বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর। তাঁর পালিয়ে যাওয়া নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। পরে এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করতে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে আরেকটি কমিটি করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, ক্রাইম অ্যানালিসিস) মোহাম্মদ আয়ুবকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম ও সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মুনাদির ইসলাম চৌধুরী।

কমিটির প্রধান এআইজি মোহাম্মদ আয়ুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে কিছু বলা যাবে না।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়ার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কার অবহেলা বা কারা জড়িত, সেটি খতিয়ে দেখতেই তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। এসআই আকবরের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কারা দায়ী তা চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের বাইরে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে এবং তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। পুরো ঘটনায় কার কী দায় তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র মতে, রায়হানকে নির্যাতন, হাসপাতালে পাঠানোর পর মৃত্যু এবং পরে তাঁকে ছিনতাইকারী সাজানোসহ এসআই আকবরকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কনস্টেবল থেকে শুরু করে মহানগর পুলিশের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত অনেকেরই দায় রয়েছে বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ছাড়া মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই বাতেন কেন আকবরকে হেফাজতে নিলেন না সে প্রশ্নও উঠেছে। তাঁকে পালাতে সরাসরি সহায়তা করেছেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির টুআইসি এসআই হাসান উদ্দিন। তদন্তে দেখা গেছে, হাসান অনেক কিছু গোপন করে আকবরকে পালাতে সাহায্য করেছেন। বর্তমানে হাসানও বরখাস্ত রয়েছেন।

এই তদন্তের অংশ হিসেবে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনার তথ্যও উঠে আসে। এসআই আকবরের নেতৃত্বে রায়হানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক মামুন, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, হারুন অর রশিদ ও তৌহিদ মিয়া। নির্যাতনেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও ব্যর্থতাও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা