kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বাজার ক্রেতার নাগালের বাইরে ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজার ক্রেতার নাগালের বাইরে ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার ক্রেতা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর জন্য দুই বছর সময় প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ। বৈঠকে কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, সেলিম আলতাফ জর্জ ও সুলতানা নাদিরাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথমে পেঁয়াজ, এরপর আলুর দাম নিয়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এভাবে একটার পর একটা নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় কী করছে? তাদের কি পূর্ব সার্ভে থাকে না? কোন বছর কোন পণ্য কতটুকু উৎপাদন হলো, আর কত চাহিদা। এটা নিরূপণ করা থাকলে আগে থেকে আমদানি করা যায়। এর তো একটা মাস্টার প্ল্যান থাকবে। হঠাৎ করে পণ্যের এই দাম বৃদ্ধি কেন?

সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বোঝানোর চেষ্টা করেন, দেশের বাস্তবতায় পেঁয়াজের উৎপাদন কম। আলু নিয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তখন কমিটির সদস্য বলেন, সাধারণ মানুষ তো বাস্তবতা শুনবে না। তারা দেখবে বাজারের কী অবস্থা? পরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এর জন্য দুই বছর সময় লাগবে। দুই বছরের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য, শিল্প ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করে একটি মন্ত্রণালয় টিম গঠন করা হয়েছে। একটি আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক করে মাস্টার প্ল্যান করা হবে। ওই প্ল্যানে উৎপাদন বাড়াতে কী কী করতে হবে, আর কোন পণ্য কতটা আমদানি করতে হবে তা আগে থেকেই কিভাবে নির্ধারণ করা যায় এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আলু-পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে কোন কোন পণ্যের চাহিদা কত তা নিরূপণ করে দেশের খুচরা, পাইকারি এবং আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে ওই সব পণ্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানি করে মজুদ করতে হবে। আগামীতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় অর্থ, বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সচিবদের সমন্বয়ে বৈঠক করে সমস্যা চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের কমিটি সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে গত রমজান মাসের মতো আগামী রমজানেও দ্রব্যমূল্য যাতে স্থিতিশীল থাকে সে জন্য এখনই ভোক্তাসাধারণের নিত্যপণ্যের চাহিদা পূরণে (ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর এবং পিঁয়াজ ইত্যাদি) আগাম কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা