kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ফাঁড়ির সামনে অনশনে রায়হানের মা

আমাকেও এখানেই মেরে ফেলা হোক

সিলেট অফিস   

২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমাকেও এখানেই মেরে ফেলা হোক

ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে গতকাল সিলেট বন্দর বাজার ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশন করেন পুলিশের নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হানের মা সালমা বেগম। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমার ছেলেকে এই ফাঁড়িতেই নির্মমভাবে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। এই ফাঁড়িতে আমার ছেলের প্রাণ গেছে। আমিও আজ এখানে এসেছি। আমাকেও এখানে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হোক।’ সন্তানের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসে কথাগুলো বলেছেন পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম।

রায়হানের মা ও স্বজনরা ফাঁড়ির সামনে গতকাল রবিবার অনশনে বসলে তাঁদের সঙ্গে অসংখ্য মানুষ যোগ দেয়। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর বাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘটনাস্থলে গিয়ে রায়হানের মায়ের অনশন ভাঙান। এ সময় মেয়র বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন বলে জানান। এর পরও হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হলে তিনিও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে রায়হান হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে গতকাল আদালতে হাজির করে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ছাড়া ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শেখ সাইদুর নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। রায়হানের বিরুদ্ধে এই সাইদুরই ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছিলেন।

গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেন রায়হান আহমদের মা। তাঁর কোলের কাছে ছিল ‘আমার ছেলে কবরে/খুনি কেন বাহিরে?’ স্লোগান লেখা ফেস্টুন। অনশনে যোগ দেন অনেক আত্মীয়-স্বজন এবং রায়হানের বন্ধুরাও। তাঁদের হাতেও ছিল ফেস্টুন।

অনশন চলাকালে রায়হানের মা বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও মূল ঘাতক এসআই আকবরকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। অন্য যারা জড়িত তাদেরও পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অথচ আসামিরা পুলিশ না হয়ে সাধারণ কেউ হলে এত দিনে ঠিকই গ্রেপ্তার করা হতো। আকবরসহ আমার ছেলে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমি অনশন চালিয়ে যাব।’

কনস্টেবল টিটু ফের রিমান্ডে : রায়হান হত্যা মামলায় পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল তাঁকে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে টিটু জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে আরো পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য বলা হলে তা দেয়নি। এ জন্য পিবিআই আরো পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন।’

এর আগে আদালতে দেওয়া তিন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দিতেই অন্যতম নির্যাতনকারী হিসেবে উঠে আসে বন্দর বাজার ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য টিটু ও হারুনুর রশীদের নাম। গত শনিবার কনস্টেবল হারুনুর রশিদকেও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই।

সন্দেহভাজন আরেকজন গ্রেপ্তার : রায়হান হত্যার ঘটনায় শেখ সাইদুর নামের আরেকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গতকাল তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রায়হানকে আটকের আগে তাঁকে ছিনতাইকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন শেখ সাইদুর রহমান। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে তিন পুলিশ কনস্টেবল জবানবন্দিতে বলেছেন, রায়হানকে যখন নির্যাতন করা হয় তখন পুলিশ ছাড়াও আরো দুই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সে রাতে সেন্ট্রির দায়িত্বে থাকা সাইদুর রহমান জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনাটি ঘটে ফাঁড়ির মুনশির কার্যালয়ের কক্ষে। দেলোয়ার হোসেন ওই কক্ষের দরজার কাছে গিয়ে দেখেন যে এসআই আকবরের হাতে একটি মোটা লাঠি। তিনি চেয়ারে বসা। তাঁর পায়ের কাছে হাতকড়া পরা এক লোক। সেখানে পুলিশের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তিকে দেখতে পান। দেলোয়ারকে দেখে আকবর বলেন, ‘তুমি সামনে চলে যাও।’ তখন তিনি সেন্ট্রি পোস্টে ডিউটিতে চলে যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা