kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

লড়াই চলছে কংগ্রেসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠারও

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লড়াই চলছে কংগ্রেসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠারও

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী ডামাডোলে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা চললেও অনেকটা যেন আড়ালেই পড়ে আছে কংগ্রেসে নির্বাচনের বিষয়টি। আলোচনার টেবিলে তেমন না থাকলেও ঠিকই উত্তাপ ছড়াচ্ছে কংগ্রেসে প্রধান দুই দল রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্রেটিক পার্টির আধিপত্য বিস্তারের লড়াইটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে সব সময়ই দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট হয়েও বড় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি শুধু হাউস ও সিনেটে নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায়। উদাহরণ দিতে গিয়ে সাউথ আলাবামা স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিজিটাল জার্নালিজমের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামার দ্বিতীয়  মেয়াদের শেষের দিকে বিচারপতি এন্টোনিন স্কেলিয়ার মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টের একটি পদ শূন্য হয়। কিন্তু সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিচারপতি ম্যারিক গারল্যান্ডকে ওই পদে মনোনয়ন দিয়েও চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়ে যেতে পারেননি ওবামা। পরে ক্ষমতায় এসে সেই সুযোগ কাজে লাগান ট্রাম্প।’ তিনি জানান, এমনিভাবে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনসহ অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়নি ওবামার পক্ষে। ফলে দুই দলই এবার কংগ্রেসের দিকে নজর দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভাকে বলা হয় কংগ্রেস। দুই কক্ষবিশিষ্ট এই আইনসভার নিম্নকক্ষকে বলা হয় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ আর উচ্চকক্ষকে বলা হয় সিনেট। হাউসের সদস্যরা নির্বাচিত হন দুই বছরের জন্য আর সিনেট সদস্যদের মেয়াদ ছয় বছরের এবং তাঁরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ফলে প্রতি দুই বছর পর পর এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়।

দেশটিতে সিনেট ও হাউস সদস্য কিভাবে নির্ধারিত হয়, সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম ও কমিউনিকেশনসের অধ্যাপক ড. শফিক রহমান। তিনি জানান, একটি স্টেটে জনসংখ্যা যা-ই হোক সিনেটর দুজন করে। ফলে সারা দেশে ৫০টি স্টেটে ১০০ জন সিনেটর। অন্যদিকে হাউসের সদস্য হয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে। এই কারণে স্টেট অনুযায়ী কমবেশি হয়। যেমন—ইয়াওমিং স্টেটে হাউস সদস্য মাত্র একজন। অন্যদিকে ক্যালফোর্নিয়ায় ৫৩ জন। নিউ ইয়র্কে ২৭ জন।

হাউসে ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে প্রয়োজন হয় ২১৮টি। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৩২টি আসন নিয়ে হাউসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ করে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের বর্তমান আসন ১৯৭টি। ফলে এই দূরত্ব ঘুচিয়ে হাউসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে সহজ মনে করছেন না নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাবের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আহনাফ আলম।

সিনেটে ১০০টি আসনের মধ্যে এখন ৫৩টি রিপাবলিকানদের দখলে। ৪৭ জন সিনেটর ডেমোক্র্যাট। এবার ৩৫টি আসনে সিনেটে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ২৩টি রিপাবলিকানদের আসন। অর্থাৎ আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রিপাবলিকানদের বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষক কাজী সাহিদ হাসান।

বিভিন্ন জরিপে ১২টি আসনে বদলের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য নিজেদের সব আসন ধরে রেখে অতিরিক্ত চারটিতে বিজয়ী হতে হবে ডেমোক্র্যাটদের। তবে শর্ত থাকে প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তার ওপর!

বিশ্লেষক মোহাম্মদ মালেক বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, ‘হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে স্পিকার নির্বাচিত হয়। আর সিনেটের প্রধান দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ফলে প্রশ্ন ওঠে, যদি দুই দল ৫০টি করে আসন পায় সিনেটে, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত হবে কিভাবে? তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট যে দলের, তারা হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ।’

যেহেতু প্রতিটি স্টেটে দুজন করে সিনেটর, রিপাবলিকান অধ্যুষিত বা রেড স্টেটগুলোতেও হাউসের সংখ্যা যা-ই হোক, সিনেটর দুজন করেই। ফলে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা বেশি দেখেন বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান অ্যালায়েন্সের চিফ কো-অর্ডিনেটর মুশতাক চৌধুরী। অবশ্য তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, ট্রাম্প বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল। ফলে সব ক্ষেত্রেই তাঁদের দল নিরঙ্কুশ বিজয় পাবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষক কাজী সাহিদ হাসান অবশ্য মনে করেন, এবার ট্রাম্প যদি বিজয়ী হন, তাহলে খুব অল্প ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট হবেন। আর বাইডেন বিজয়ী হলে বড় ব্যবধানে হবেন। সে ক্ষেত্রে হাউসের পাশাপাশি সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের বিজয় দেখছেন এই বিশ্লেষক। গর্ভপাতবিরোধী বিচারককে সুপ্রিম কোর্টে মনোনয়ন দেওয়া, করোনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতাসহ নানা কারণে এবার রেড স্টেটের নারী ভোটাররাও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেবেন বলে তাঁর ধারণা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা