kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

স্পিডবোট চলাচলে নিয়ম মানার বালাই নেই

রাঙ্গাবালীর দুর্ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ যাত্রীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্পিডবোট চলাচলে নিয়ম মানার বালাই নেই

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটের আগুনমুখা নদীতে স্পিডবোটডুবির ঘটনার ৪৫ ঘণ্টা পর নিখোঁজ পাঁচ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে গতকাল শনিবার। গতকাল সকালে  আগুনমুখা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ। বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি রাতেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচল করছে স্পিডবোট। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা উপেক্ষা করছেন চালকরা। যাত্রীদের জন্য স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রাখার কথা থাকলেও একটি রুট ছাড়া অন্য কোনো রুটে তা রাখা হয় না। 

আগুনমুখা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ সদস্য ও বাকেরগঞ্জ থানার জিরাইল গ্রামের মৃত রহমানের ছেলে মহিবুল হক (৪৫), কৃষি ব্যাংক রাঙ্গাবালী শাখার পরিদর্শক পটুয়াখালী থানার আউলিয়াপুর এলাকার আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫), বেসরকারি সংস্থা  আশার কর্মী বাউফল থানার কাশিপুর লক্ষ্মীপাশা এলাকার শাহজাহান সিকদারের ছেলে হুমায়ুন কবির (৩১), সড়ক নির্মাণ শ্রমিক পটুয়াখালী সদর থানার ময়দান মাদরাসা এলাকার রহিম হাওলাদারের ছেলে হাসান (৩৫) এবং নির্মাণ শ্রমিক বাউফল থানার জয়গোড়া এলাকার মৃত আলম হাওলাদারের ছেলে ইমরানের (৩২) লাশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান ও রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহমেদ জানান, উদ্ধার করা লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সুরতহাল করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।          

রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া থেকে পানপট্টির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোটডুবির ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার। এতে চালকসহ ১৩ যাত্রী জীবিত উদ্ধার হলেও পাঁচজন নিখোঁজ ছিলেন। গতকাল তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি রাতেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচল করছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা উপেক্ষা করছেন চালকরা। এতে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রীসাধারণ। বিশেষ করে রাতে দ্রুতগতিতে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে স্পিডবোট। সর্বশেষ রাঙ্গাবালীতে দুর্ঘটনায় পাঁচ যাত্রী মারা যান।

স্পিডবোট দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে নেই। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও স্পিডবোট মালিকদের তথ্য অনুযায়ী গত ৩১ আগস্ট রাতে হিজলার মেঘনায় দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় মামলা কিংবা গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট এলাকায় দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মা-মেয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় দুই চিকিৎসক গুরুতর আহত হন।

ওই ঘটনার পরের দিন বন্দর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। ডিসিঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি কালাম শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলমকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করে।

বিষয়টি নিয়ে ডিসিঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি কালাম শরীফ বলেন, ‘দুটি স্পিডবোট ও চালকরা ভোলার। ওই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সমিতি সঠিকভাবে তদারকি করেনি, এই অভিযোগে মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলা বিচারাধীন। আমরা জামিনে রয়েছি।’

ডিসিঘাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বড় স্পিডবোটে ১২ থেকে ১৪ জন যাত্রী তোলা হচ্ছে। এতে কোনো যাত্রী আপত্তি করলে চালক বা মালিক পক্ষের লোকজন তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। বোটে রাখা হয় আট থেকে ১০টি লাইফ জ্যাকেট। যার মন চাইছে পরছে। নেই কোনো বাধ্যবাধকতা। স্পিডবোটের সঙ্গে নেই বয়া। তবে বরিশাল থেকে ভোলা পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ঠিকই নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। 

ডিসিঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের ডিসিঘাট থেকে ভোলার ভেদুরিয়া, বরিশালের লাহারহাট থেকে ভেদুরিয়া, বরিশালের বুখাইনগর থেকে মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশালের তালতলী থেকে পাতরহাট, মুলাদীর মীরগঞ্জ ফেরিঘাট, হিজলা, বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা, বাউফলের কালিশুড়ি, ধুলিয়া নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল করছে। বরিশাল-ভোলা রুট ছাড়া অন্য কোনো রুটে যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট নেই।

বরিশাল থেকে ভোলাগামী যাত্রী মলয় মিত্র কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জরুরি কাজে বরিশালে এসেছি। কাজ শেষে দিনে দিনে ভোলায় ফিরতে হবে। এ কারণে স্পিডবোটে উঠেছি। চালকদের আচরণ খুব রূঢ়। স্বল্পসংখ্যক লাইফ জ্যাকেট আছে, তা-ও বোটে ফেলে রাখা হয়েছে।’

বিআইডাব্লিউটিএ বরিশালের নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাতে বা দিনে চলাচল ও অন্যান্য বিষয় দেখার কথা নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ সচেতন না হলে এসব দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না। মানুষ রাতে না উঠলে স্পিডবোট চলবে না।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা