kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ঘোষণার প্রভাব নেই তেল ও আলুর খুচরা দামে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘোষণার প্রভাব নেই তেল ও আলুর খুচরা দামে

সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে টানা বৃষ্টিতে মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দি। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন কেউ ঘরের বাইরে বের হয়নি। বাজারে ক্রেতাসমাগম ছিল কম। তাই বলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেনি। তেল ও আলুর দাম কমানোর ঘোষণা থাকলেও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব নেই। চালের দাম আরেকটু বেড়েছে। সবজির দাম কোথাও কিছুটা কম আবার কোথাও বেশি।

গত কয়েক দিন শ্রমিক ধর্মঘটে বন্ধ ছিল নৌযান চলাচল। এতে পণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এরপর ধর্মঘট না থাকলেও বেঁকে বসেছে আবহাওয়া। ভারি বর্ষণে হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা কম। অনেক বাজারে শাক-সবজি নষ্ট হচ্ছে। ফলে দাম কমিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেন বিক্রেতারা।

রাজধানীর মুগদা বাজারে প্রতিদিন ভ্যানে করে সবজি নিয়ে বসেন বিক্রেতা আব্দুল হামিদ। গতকালও শ্যামবাজার থেকে কিছু সবজি এনেছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সবজি নিয়ে বাজারে বসতেই পারেননি। দুপুরের দিকে মহল্লার ভেতর এক মসজিদের সামনে সবজি নিয়ে বসেন। তিনি গোল বেগুন বিক্রি করছিলেন ৪০ ও ৫০ টাকা এবং লম্বা জাতের শিম ৬০ টাকা কেজি। অথচ আগের দিন তিনি এই বেগুন বিক্রি করেছেন ৮০ টাকার বেশি দরে। তবে অনেক বাজারে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে শাক-সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

আলু ও তেলের দাম কমানোর ঘোষণা থাকলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব নেই। বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামেই। চলতি সপ্তাহে সব ধরনের চালের দামই আরেকটু বেড়েছে। আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকা দরে বিক্রির কথা থাকলেও গতকাল বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, আগের কেনা আলু বিক্রি করছেন; তাই দাম বেশি।

বাজারে কয়েক রকম পেঁয়াজ রয়েছে। দেশি ও আমদানি করা এসব পেঁয়াজের দাম মান ভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। রসুন আগের মতোই ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চায়না আদা ২৫০ টাকা কেজি।

চালের দাম এ সপ্তাহে কেজিতে এক টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা গতকাল ছিল ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা কেজি। মিনিকেট মান ভেদে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে আমন ও বোরো সরু চালের দাম বেড়েছে ২.৭৪ শতাংশ। মাঝারি ও মোটা চালের দাম বেড়েছে ১.৬২ শতাংশ পর্যন্ত। মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম এখন ৪৫ টাকা কেজি।

গত বৃহস্পতিবার মিলগেটে ভোজ্য তেলের দাম লিটার বা কেজিতে দুই টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। গতকালও বিভিন্ন খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ৯৭ টাকা লিটার। পাম তেল ছিল ৮৯ থেকে ৯৪ টাকা লিটার। বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা লিটার। মসুর ডাল আগের মতোই ৭৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফার্মের মুরগির ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা কেজি পর্যন্ত। গরুর মাংস আগের মতোই ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা