kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু, আজ মহাসপ্তমী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু, আজ মহাসপ্তমী

দুর্গোৎসবের জন্য প্রস্তুত পূজামণ্ডপ। গতকাল রাজধানীর বনানী থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকের বোল, কাঁসর ঘণ্টা ও শাঁখের ধ্বনিতে মুখর রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলো। নতুন পোশাক পরে শিশু থেকে বৃদ্ধ—অনেকেই গতকাল বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে পূজামণ্ডপে ভিড় জমিয়েছিলেন দেবীদর্শনে। প্রণাম করাসহ পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেয় ভক্তরা। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবারের আয়োজন ও অংশগ্রহণ কিছুটা সীমিত করা হয়েছে।

দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ এবং বিহিতপূজার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। গতকাল মহাষষ্ঠীপূজায় অর্থাৎ দুর্গোৎসব শুরুর দিনে দেবী দুর্গা শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্তলোকে আসেন। সঙ্গে আসেন চার সন্তান—বিদ্যার দেবী সরস্বতী, ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মী, সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং পৌরুষের প্রতীক কার্তিক। পুরাণে আছে, অশুভ অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হয় এক মহাশক্তির আবির্ভাব। দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা।

গতকাল সকাল থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজারি ও ভক্তদের ভিড় ছিল। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে ষষ্ঠীপূজা শুরু হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার ও পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনা মেনে চলতে দেখা গেছে সবাইকে। শরীরের তাপমাত্রা মেপে মেপে মন্দিরে প্রবেশ করানো হয়। সামাজিক দূরত্বের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। মাস্ক ছাড়া কাউকেই মণ্ডপ এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আগের দিন থেকেই মন্দিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সন্ধ্যা আরতির পর মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ঘর থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে মাস্ক পরার সতর্কবার্তা অনুসরণ করা হচ্ছে। এ জন্য পূজার আয়োজনও সংকুচিত করা হয়েছে। নবমী পর্যন্ত সন্ধ্যা আরতির পর মন্দির বন্ধ রাখা হবে। উৎসবের চেয়ে মানুষের জীবনকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলছে।

দুর্গোৎসবে আজ শুক্রবার মহাসপ্তমী। করোনামুক্তির জন্য আজ দুপুর ১২টা ১ মিনিটে মায়ের কাছে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এর আগে সপ্তমীপূজা শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করবে কয়েকটি টেলিভিশন। একই সময়ে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির নামের ফেসবুক পেজ থেকে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বাড়িতে বসেই মায়ের চরণে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পূজা উদযাপন কমিটি।

আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। 

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : এদিকে দুর্গোৎসব সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক উৎসবও। দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী একত্র হন, মিলিত হন আনন্দ-উৎসবে। তাই এ উৎসব সর্বজনীন। এ সর্বজনীনতা প্রমাণ করে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’ তিনি আরো বলেন, ‘ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক; ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন আরো সুসংহত হোক—এ কামনা করি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সকলে মিলে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।’ তবে প্রধানমন্ত্রী মহামারিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের অনুরোধ জানান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা