kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ১২ দিন

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আছে ভয় উদ্বেগ

নিউ ইয়র্কে আগাম ভোট ২৪ অক্টোবর

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আছে ভয় উদ্বেগ

নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকার বাসিন্দা রোকসানা বেগম এবার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারে ভোট দেওয়াটা বেশি জরুরি। কিন্তু করোনা মহামারি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভয়ের কারণে ডাকযোগেই ভোট দিলাম।’

কেবল রোকসানা বেগম নন, নিউ ইয়র্কে অবনতি হওয়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভয় ও উদ্বেগ রয়েছে অনেকের মনে। নির্বাচন সামনে রেখে এই অবস্থা আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সারা দেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামে ৪৬ বছরের এক কৃষ্ণাঙ্গকে গ্রেপ্তার করার সময় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা চেপে ধরে রেখেছিলেন। গত ২৫ মে পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু গোটা দেশে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

আন্দোলনের সুযোগে আবার এক শ্রেণির অপরাধী লুটপাট ও জ্বালাও-পোড়াও করেছে। সন্ত্রাস ও অস্থিরতায় মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করেছে। এ অবস্থায়ও রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দুই দল একে অপরকে দোষারোপ করে গেছে।

নিউ ইয়র্কের হাই স্কুল শিক্ষক ও নিবন্ধিত ডেমোক্রেট শেখ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই নিউ ইয়র্কে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে ভয়ও আছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারকে বুঝতে হবে এ পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো। এর পেছনে রয়েছে বৈষম্য এবং বর্ণবাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।’

শেখ আল মামুন অভিযোগ করেন, ‘কেবল নিউ ইয়র্ক নয়, গোটা দেশে তৈরি হওয়া বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন মমতা দিয়ে উপলব্ধি না করে জোরপূর্বক তা দমন করতে চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যা হিতে বিপরীত হয়েছে।’

তবে বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান এলায়েন্সের চিফ কো-অর্ডিনেটর মুশতাক চৌধুরী এ জন্য দুষলেন নিউ ইয়র্কে আইন করে পুলিশের ক্ষমতা খর্ব করাকে। সেই সঙ্গে এই অস্থির অবস্থা থেকে ডেমোক্রেটরা সুযোগ নিতে চাইছে উল্লেখ করে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেভাবে ভাঙচুর, লুটতরাজ হয়েছে, কোনো বিবেকবান মানুষই সেটিকে সমর্থন করবে না।’ 

এদিকে আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে নিউ ইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্লি ভোটিং বা আগাম ভোট নেওয়া; যা চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। বিভিন্ন স্টেটে এরই মধ্যে আগাম ভোট শুরু হয়েছে। এর পর দেশজুড়ে ভোট হবে আগামী ৩ নভেম্বর।

মেয়র অবশ্য সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি সহিংসতা করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা সেই সহিংসতা অবশ্যই থামাব।’ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ অফিসাররা হয়তো প্রতিবাদ সমাবেশস্থলে যেতে চাইবেন না। এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক মেয়র বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে সব সময়ই নিউ ইয়র্কে স্বাগত জানানো হয়। আর এনওয়াইপিডি একটি অত্যন্ত উঁচুমানের পেশাদারি পুলিশ ফোর্স।’

নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকেও নির্বাচন-পরবর্তী শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে ব্রিফিং করা হয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ভালোই উদ্বেগ রয়েছে। আর এই উদ্বেগ কেবল নিউ ইয়র্ক নয়, গোটা দেশে। ফলে এবারের নির্বাচনকে একটু ভিন্নভাবেই ব্যাখ্যা করছেন অনেকে।

অনেক মানুষ এবার আর্লি বা আগাম ভোট দিয়েছেন। ডাকযোগে কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোট দিতে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আগাম ভোটের সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই ভোট পাঁচ গুণ বেশি।  করোনা মহামারির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোট দেওয়া সবার নজরে এসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষ কোনো একটি জায়গায় হয়তো অবস্থান নিয়েছে। সেটি কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে, নাকি তাঁকে সরিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে ক্ষমতায় আনতে; এটি বোঝা যাবে নির্বাচনের পরে।

বাংলাদেশ ল সোসাইটি, নিউ ইয়র্কের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলী বাবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক, মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয় রয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হবে এই ভয় দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা।’ সেই সঙ্গে যেকোনো মূল্যে দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নও একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা