kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

পি কে হালদার দেশে ফেরামাত্র গ্রেপ্তারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পি কে হালদার দেশে ফেরামাত্র গ্রেপ্তারের নির্দেশ

দুদকের মামলায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক পি কে হালদার দেশের বিমানবন্দরে পা রাখামাত্র তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের আইজি, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। পি কে হালদার নিরাপদে দেশে ফিরে যাতে আদালতের হেফাজতে যেতে পারেন সে জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদনে বলা হয়, টাকা উদ্ধারে সহযোগিতা করতে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান তিনি। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আইএলএফএসএলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

আইএলএফএসএল গত মঙ্গলবার হাইকোর্টকে জানায়, পি কে হালদার আগামী ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরতে টিকিট কেটেছেন। ওই দিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল আদেশ দেন আদালত। আদালত বলেন, কোনো আত্মসাৎকারী টাকা ফেরত দিতে চাইলে সে সুযোগ থাকা যেমন দরকার, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাও প্রয়োজন।

হাইকোর্ট গত ১৯ জানুয়ারি এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, বহুল আলোচিত পি কে হালদারসহ ১৩ পরিচালকের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পি কে হালদারের মা, স্ত্রী, ভাইসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ, সব সম্পদ ক্রোক করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া পি কে হালদারসহ ওই ২০ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের গত পাঁচ বছরের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটির সাত আমানতকারীর করা এক আবেদনে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আইএলএফএসএলের দুইজন পরিচালক আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। এ অবস্থায় পি কে হালদার দেশ থেকে পালিয়ে যান।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই দুটি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন তিনি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএলএফএসএল থেকে এক হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা সরানো হয়েছে। এর সঙ্গে পি কে হালদারের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

 

মন্তব্য