kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

এবারও আলুর নির্ধারিত দাম মানছে না কেউ

► পাইকারি বাজারে বাড়েনি সরবরাহ
► শুরু হয়েছে টিসিবির বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবারও আলুর নির্ধারিত দাম মানছে না কেউ

এবার কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে সরকার নতুন করে আলুর দাম বেঁধে দিলেও সে দামে বিক্রি করছেন না পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। আগের মতোই গতকাল বুধবার খুচরা বাজারে মানভেদে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে আলুর বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারা দেশে খোলাবাজারে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেছে।

সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি না করার বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এখনো পাইকারিতে দাম আগের মতোই রয়েছে, বাড়তি দামেই তাঁদের কিনতে হচ্ছে। আর পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, হিমাগার থেকে এখনো আলুর সরবরাহ বাড়েনি। যেটুকু আসছে তাও দাম বেশি। ফলে দাম কমছে না।

হিমাগার মালিকদের দাবি, সংরক্ষিত আলুর মালিক কৃষক ও ব্যাপারীরা। এর মধ্যে বিভিন্ন জেলার হিমাগার থেকে চাহিদার ভিত্তিতে তাঁরা দুই-তৃতীংশ আলু সরবরাহ করেছেন। যেটুকু রয়েছে তা বীজ আলু হিসেবে সংরক্ষিত।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মানিকনগর, পুরানা পল্টন, মতিঝিল ও মুগদাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই ভালো মানের আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। কিছুটা কম মানেরগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজারে পাইকারি দোকানে আলু বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে। তবে বিভিন্ন সুপারশপে ছাড় মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে এর মধ্যে আলুর সরবরাহ কমে গেছে। একই অবস্থা পাইকারি বাজারগুলোতেও। কারওয়ান বাজারে গতকাল চার-পাঁচটি পাইকারি দোকানে আলু দেখা গেছে। অথচ এই বাজারে ২২-২৩টি পাইকারি দোকান সব সময় খোলা থাকে।

এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে অভিযান চলে, এ জন্য অনেকে বিক্রি বন্ধ রেখেছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে হিমাগার থেকে আলু এলে আবার ঠিক হয়ে যাবে।

পুরানা পল্টন বাজারের সবজি বিক্রেতা ওয়াদুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, কারওয়ান বাজারে আলুর বাড়তি দাম দেখে একবার ভেবেছেন আনবেন না। পরে পাওয়া যাবে না—এই চিন্তা করে এক বস্তা এনেছেন। অথচ আগে তিনি প্রতিদিন তিন বস্তা (প্রতি বস্তায় ৫০-৬০ কেজি) আলু বিক্রি করেন।

গত মঙ্গলবার সরকার আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৩০ টাকা ও হিমাগার পর্যায়ে ২৭ টাকা নির্ধারণ করে। এর আগে আলুর বাজারে নৈরাজ্য শুরু হলে সরকার খুচরায় ৩০ টাকা, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা কেজি দর ঠিক করে দেয়। সেই দাম মানেননি কোনো পর্যায়ের ব্যবসায়ীই।

গতকাল জয়পুরহাটের হিমাগার মালিকরা গণমাধ্যমকে বলেছেন, জেলার ১৭টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ক্ষমতা দেড় লাখ মেট্রিক টন হলেও এবার আলু মজুদ হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিটি হিমাগারেই সংরক্ষণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু চাহিদার ভিত্তিতে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা ভাড়া পরিশোধ করে হিমাগার থেকে নিয়ে গেছেন।

এদিকে গতকাল রাজধানীর মতিঝিল, সচিবালয় গেটসহ রাজধানীর ৩০টি স্থানে টিসিবি আলু বিক্রি করেছে। খুচরা বাজারে দাম বেশি থাকায় ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে টিসিবির ট্রাকগুলোতে। বিক্রি শুরুর দুই-তিন ঘণ্টায় বিক্রি শেষ হয়ে গেছে এসব ট্রাকের আলু।

মতিঝিল এলাকায় কথা হয় আল মাদিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক টিসিবির ডিলার জুয়েল আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ (বুধবার) থেকেই আলু বিক্রি শুরু হয়েছে। ২৫ টাকা করে প্রতিটি ট্রাকে ৩০০ কেজি আলু বিক্রি করছি আমরা। বাজারে দাম বেশি থাকায় ট্রাকে সব পণ্যেরই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে আলু আর পেঁয়াজের চাহিদা বেশি।’

টিসিবি ট্রাকে করে খোলাবাজারে ৫০ টাকা কেজি মসুর ডাল, ৮০ টাকা লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ও ৩৬ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ আগে থেকেই বিক্রি করে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা