kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ

নাব্যতা সংকট, জোয়ার এলে লঞ্চ চলে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাব্যতা সংকট, জোয়ার এলে লঞ্চ চলে

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি বন্ধের পর এবার লঞ্চ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে গতকাল সোমবার সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৯টার দিকে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেলে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে জোয়ার চলে গেলে ফের বন্ধ হয় লঞ্চ চলাচল। ফলে এই নৌপথে এখন লঞ্চ চলাচল নির্ভর করছে জোয়ার-ভাটার ওপর। শুধু সি-বোট চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই নৌযান ভাড়া করে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার করায় গতকাল সি-বোট সংকট দেখা দেয়। সব মিলিয়ে এই নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীরা এখন মহাদুর্ভোগে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে ও ঘাট সূত্রে জানা যায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে কয়েক মাস ধরে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। কয়েক দফা বন্ধ আর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চললেও গত ১২ অক্টোবর থেকে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চ্যানেলে ড্রেজিং চলায় নৌপথটি সরু হয়ে গেছে। সরু এই চ্যানেলের মধ্য দিয়ে লঞ্চ চলতে গিয়ে স্রোতের টানে ড্রেজারের পাইপের সঙ্গে গত ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রেষ্ঠ-১, ১ অক্টোবর রিয়াদ এক্সপ্রেস ও ১১ অক্টোবর শাহপরান নামের তিনটি লঞ্চের তলা ফেটে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু নদীতে পানি কম থাকায় আধাডুবো হয়েই পদ্মায় আটকে যায় লঞ্চ তিনটি। তবে ড্রেজিংয়ের কাজে থাকা শক্তিশালী ছোট জাহাজ, ট্রলার ও অন্য লঞ্চ দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের উদ্ধার করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নাব্যতা সংকটের কারণে এত দিন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লঞ্চ চললেও গত রবিবার এই নৌপথে নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করে। প্রায় ৩০টি লঞ্চ আটকে যায় চ্যানেলের মধ্যে। ফলে গতকাল সকাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় লঞ্চ চলাচল। সকাল ৯টার দিকে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। তবে দুপুর ১২টার দিকে জোয়ার চলে গেলে লঞ্চ চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে লঞ্চ ও ফেরি না পাওয়ায় যাত্রীরা সি-বোটে করে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। তবে ঘাটে সি-বোটের সংখ্যাও কম ছিল। একদিকে যাত্রীর চাপ, অন্যদিকে সি-বোট সংকট থাকায় সি-বোট ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সি-বোট সংকটের কারণ হিসেবে জানা যায়, পদ্মায় মা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেণির মৌসুমি চক্রের সদস্যরা এই নৌপথের বেশির ভাগ সি-বোটই এখন ভাড়ায় নিয়ে নিয়েছে। তারা সি-বোট দিয়ে পদ্মায় মা ইলিশ ধরছে। তাই ঘাটে সি-বোট সংকট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল থেকে লঞ্চ চলাচলেও নেমে এসেছে প্রতিবন্ধকতা। আসলে চ্যানেলে প্রচুর স্রোত রয়েছে। লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের মুখে একটি ডুবোচরের সৃষ্টি হওয়ায় উজান থেকে ধেয়ে আসা স্রোত সেখানে বাধাগ্রস্ত হয়ে চ্যানেল দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে আবার ওপর দিকে উঠে যাচ্ছে। ফলে এখানে একটি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা পদ্মা সেতুর ২৪ থেকে ২৬ নম্বর পিলারের কাছে। এখানে ড্রেজিং করায় ড্রেজারের পাইপ ভেসে থাকার কারণে চ্যানেলটি সরু হয়ে গেছে। ফলে সরু এ চ্যানেল দিয়ে লঞ্চগুলো চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এত দিন পাশের চরগুলো চ্যানেলে ভেঙে পড়ায় প্রতিদিনই চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তবে এখন ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে পুরো গতিতে। আশা করা যায় আগামী বুধ-বৃহস্পতিবার নাগাদ চ্যানেল খুলে দেওয়া হবে। তখন ফেরি চলাচলে আর অসুবিধা হবে না।

বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরো জানান, আগামী এক বছর যাতে সুন্দরভাবে ফেরি চলাচল করতে পারে, সে জন্য শিমুলিয়ার উজানে হাজার চরটি কেটে বিকল্প চ্যানেল তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই এটিও খুলে দেওয়া হবে। তখন যাত্রীদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। এরপর পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেলে স্থায়ী সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। তবে যাত্রীদের উচিত আপাতত এই নৌপথ পরিহার করা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা