kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আর বাকি ১৫ দিন

ভোটে বিজয়ী মানেই প্রেসিডেন্ট নন

সুইং স্টেটগুলোতেই নজর ট্রাম্প-বাইডেনের

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোটে বিজয়ী মানেই প্রেসিডেন্ট নন

ধরা যাক, কোনো একজন প্রার্থী সারা দেশ থেকে ৫০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন। এর পরও তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর কারণ দেশটির সংবিধানে জুড়ে দেওয়া অন্যতম একটি শর্ত। প্রেসিডেন্ট হতে হলে একজন প্রার্থীকে অবশ্যই ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে বিজয়ী হতে হয়। আর এতে দেশজুড়ে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি ভোট পেতেই হবে।

২৩০ বছরের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এমনটি হয়েছে পাঁচবার। পপুলার ভোটে জয়ী হয়েও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি ওই নির্বাচনগুলোর প্রার্থীরা। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন পেয়েছিলেন মোট ভোটের ৪৮.২ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোট ছিল ৪৬.১ শতাংশ। ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি ক্লিনটন ২৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৪ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। এর পরও প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? কারণ হিলারি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট কম পেয়েছিলেন। গত নির্বাচনে হিলারি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়েছিলেন ২২৭টি আর ট্রাম্প পেয়েছিলেন ৩০৪টি। ফলে পপুলার ভোটে জিতেও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সেক্রেটারি অব স্টেট।

এ বিষয়ে সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিটি স্টেটে জনসংখ্যা যা-ই হোক, সিনেটর থাকেন দুজন করে। তবে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য বা কংগ্রেসম্যান থাকেন জনসংখ্যার ভিত্তিতে। ফলে হাউসের সদস্য কোনো স্টেটে মাত্র একজন, কোনো স্টেটে অনেক বেশি। এই যেমন ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৩ এবং নিউ ইয়র্কে ২৭ জন হাউসের সদস্য থাকলেও দুটি স্টেটেই সিনেটর কিন্তু দুজন করেই। একটি স্টেটের সিনেট ও হাউসের সদস্যসংখ্যার যোগফল হচ্ছে ইলেকটোরাল কলেজ।

অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান জানান, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি কোনো স্টেট নয়, এর পরও ১৯৬১ সালে হওয়া সংবিধানের ২৩তম সংশোধনী অনুযায়ী এখানে তিনটি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা একটি স্টেটে নির্ধারণ করে দেওয়া ইলেকটরদের নির্বাচিত করেন। অর্থাৎ রিপাবলিকান দল এবং ডেমোক্র্যাট দল নিজেদের ইলেকটর নির্বাচন করেন। এ ক্ষেত্রে দলের প্রতি তাঁদের আনুগত্য ও অন্যান্য বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ল সোসাইটি, নিউ ইয়র্কের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলী বাবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাই বলে পপুলার ভোটের কোনো গুরুত্ব নেই, এমন ভাবলে চলবে না। একটি স্টেটে পপুলার ভোটে বিজয়ী হলেই কেবল ওই স্টেটের সব ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাবেন প্রার্থী। মানে নিয়ম অনুযায়ী, একটি স্টেটে পপুলার ভোটে বিজয়ী প্রার্থী সব ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে যান।’

অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান জানান, এই ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের কারণেই কিন্তু ব্যাটেলগ্রাউন্ডখ্যাত সুইং স্টেটগুলোর ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ ওই সব স্টেটই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দেয়। এবারও তেমনটি ঘটবে বলে মনে করেন ৪২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই শিক্ষক।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরুন, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্ক নিশ্চিতভাবেই ডেমোক্রেটিক স্টেট হওয়ায় বাইডেন জয় পাবেন। স্টেট দুটিতে যথাক্রমে ৫৫ ও ২৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাসে ৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিতভাবেই যাবে ট্রাম্পের পক্ষে। এমন আরো নিশ্চিত ভোট দুই দলেরই রয়েছে। কিন্তু ফল নির্ধারণ করবে ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিনের মতো সুইং স্টেটগুলো।

ফ্লোরিডায় ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে ইলেকটোরাল কলেজের ভোট রয়েছে ২৯টি। একই সঙ্গে পেনসিলভানিয়ায় ২০, মিশিগানে ১৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। এই দুটি স্টেটেও জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে এসব স্টেট জো বাইডেন নিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলী বাবুল।

নির্বাচনে ফল নির্ধারণকারী এই ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। বেশ কয়েকবার এই পদ্ধতি বাতিলের কথা উঠলেও তা হয়ে ওঠেনি। বিশেষ করে ২০১৬ সালে হিলারির পরাজয়ের পর এই পদ্ধতি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল জোরালোভাবে। তখন অন্তত ১৫টি স্টেট এই পদ্ধতি সংস্কারের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু নানা বাধ্যবাধকতায় সেটা করা যায়নি।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছে, এবারও পপুলার ভোটে হেরে গিয়ে শুধু ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের কারণে প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যে কারণে বিভিন্ন জরিপে এগিয়ে থেকেও এবার হালকাভাবে নিচ্ছে না জো বাইডেনের প্রচার শিবির। বিশেষ করে তারা সুইং স্টেটগুলোর দিকে জোরালো নজর রাখছে তারা। বাইডেনের প্রচার ব্যবস্থাপক জেন ও’ম্যালি ডিলন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন জরিপের চেয়েও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা