kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বসনিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশিরা

‘কাপড়চোপড় খুলে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘কাপড়চোপড় খুলে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়’

দুই বছর আগে ওমান থেকে বসনিয়া এসেছেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইয়াসিন। স্বপ্ন ইউরোপের কোনো দেশে পাড়ি জমানো। তিনি এখন আটকে আছেন ক্রোয়েশিয়া-বসনিয়া সীমান্তের ভেলিকা ক্লাদুসার নামে একটি পাহাড়ের ঢালে। সেখান থেকে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি ইয়াসিন। বারবার দেশটির পুলিশের হাতে আটকা পড়েন। পুলিশ তাঁর সর্বস্ব রেখে আবারও বসনিয়া ফেরত পাঠায় বলে জানান তিনি।

ইয়াসিন বলেন, ‘ওমান থেকে স্পিডবোটে করে ইরান এসে সেখান থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে আসি আমি। গ্রিস থেকে আসি বসনিয়াতে। গত চার মাস যাবৎ এ জঙ্গলটিতে আছি। সর্বশেষ গত তিন দিন আগে ক্রোয়েশিয়া প্রবেশের চেষ্টা করি। সে সময় কিছুটা (ক্রোয়েশিয়ার) ভেতরে ঢুকেছিলাম। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাই। পুলিশ আমার সব কিছু কেড়ে নেয়। শুধু আন্ডারওয়্যার পরা অবস্থায় আমাকে এখানে ফেরত পাঠায়।’

বসনিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশিদের আটকে পড়ার বিষয়ে সরেজমিন প্রতিবেদনের জন্য বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন ডয়চে ভেলের দুই সংবাদকর্মী। তাঁদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশটির ক্রোয়েশিয়া সীমান্তবর্তী ভেলিকা ক্লাদুসা এলাকার একটি পাহাড়ের ঢালে প্রায় কয়েক শ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। তীব্র শীত, খাবারের অভাব, পানির সংকটে অমানবিক জীবন যাপন করছেন তাঁরা।

লাখ টাকা খরচ আর বিপত্সংকুল পথ

ভেলিকা ক্লাদুসায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁদের বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে এসেছেন। পাড়ি দিয়েছেন দুর্গম পথ। সেখানে অবস্থানরতরা জানান, তাঁরা দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে ইউরোপের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

অবস্থানরতদের একজন বলেন, ‘১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করে এখানে এসেছি। বিভিন্ন দেশে দালালদের এ টাকা দিতে হয়েছে আমাদের। এ মুহূর্তে দেশে গেলে নিঃস্ব হয়ে যাব আমরা।’

মানবেতর জীবন

গাছের সঙ্গে পলিথিন বেঁধে ভেলিকা ক্লাদুসার একটি পাহাড়ের ঢালে বানানো হয়েছে তাঁবু, যেখানে গাদাগাদি করে রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা। এমন বেশ কিছু তাঁবুতে অবস্থান কয়েক শ বাংলাদেশির। কর্দমাক্ত মাটিতে পাতলা পলিথিন বিছিয়ে নিজেদের থাকার আয়োজন করেছেন তাঁরা। নেই পর্যাপ্ত খাবার কিংবা জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা।

ভেলিকা ক্লাদুসায় একটি শরণার্থী ক্যাম্প থাকলেও সেখানে সবাইকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন পাশের একটি পরিত্যক্ত কারখানায়।

নজর নেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর

কয়েক শ মানুষ বসনিয়ার এ জঙ্গলে মানবেতর জীবন যাপন করলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তাঁদের সহায়তায় তৎপর হতে দেখা যায়নি। এখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা জানান, মাঝেমধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কেউ কেউ কিছু খাবার আর চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

 

মন্তব্য