kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সবিশেষ

চাঁদ বাঁচাত পৃথিবীকে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাঁদ বাঁচাত পৃথিবীকে!

একটা সময় ছিল যখন সূর্যের হানাদারির হাত থেকে চাঁদই বাঁচাত পৃথিবীকে। আকারে ছোট হলেও চাঁদেরও ছিল নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্র। পৃথিবীর সঙ্গে চৌম্বকক্ষেত্র ভাগাভাগি করত চাঁদ। ভয়ংকর সৌরবিকিরণ, সৌরবায়ুর ঝাপটা থেকে বাঁচাত তার উপগ্রহ। নাসার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই খবর দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে। সে সময় চাঁদ আমাদের অনেক কাছাকাছি ছিল। এখন যে দূরত্বে রয়েছে (দুই লাখ ৩৮ হাজার মাইল), তখন তার তিন ভাগের এক ভাগ দূরে ছিল চাঁদ। আমাদের থেকে দূরত্ব ছিল মাত্র ৮০ হাজার মাইল।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সেটা ছিল ৪৫০ কোটি বছর আগেকার কাহিনি। পৃথিবীতে তখনো প্রাণের জন্ম হয়নি। সূর্যেরও তখন প্রায় শৈশব। সৌরবিকিরণ আর সৌরবায়ুর ঝাপটা তখন অনেক বেশি ভয়ংকর। সৌরবিকিরণে তখন পৃথিবীর গা এতটাই জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছিল যে সেই পরিবেশে কোনো প্রাণের জন্ম নেওয়াই সম্ভব নয়; প্রাণের বিকাশ তো আরো দূরের কথা। মূল গবেষক নাসার মুখ্য বিজ্ঞানী জিম গ্রিন বলছেন, তখন পৃথিবীতে প্রাণের জন্ম হয়নি। এর ফলে প্রাণ সরাসরি উপকৃত হওয়ার সুযোগ পায়নি. কিন্তু উপকৃত হয়েছিল পরোক্ষে, পরে। কারণ চাঁদ ওই উপকারটা করেছিল বলেই সূর্যের তাপ আর ভয়ংকর সৌরবিকিরণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল হাপিশ হয়ে যায়নি। চাঁদ তার নিজের চৌম্বকক্ষেত্রকে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়ে সূর্যের যাবতীয় হানাদারির হাত থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে বাঁচিয়েছিল। না হলে এখন যা মঙ্গল, শুক্রের দশা, জন্ম থেকেই যে দশা বুধ গ্রহের, পৃথিবীরও সেই দশাই হতো। বায়ুমণ্ডল না থাকলে প্রাণের জন্ম সম্ভবই হতো না পৃথিবীতে।

নাসার গবেষণা জানিয়েছে, এই অবস্থা অবশ্য খুব বেশি দিন চলেনি। ৪৫০ কোটি বছর থেকে ৩৫০ কোটি বছর আগে পর্যন্ত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের পরিত্রাতা হিসেবে ভূমিকা ছিল চাঁদের। সে সময় পৃথিবীও বাঁচিয়েছে চাঁদের বায়ুমণ্ডল। একটা সময় পর পৃথিবীও আর পারেনি। আজ থেকে ১৫০ কোটি বছর আগেই চাঁদের যেটুকু অল্পস্বল্প বায়ুমণ্ডল ছিল, তারায় পুরোটাই উবে গিয়েছিল, সৌরবিকিরণে। লোপ পেয়েছিল তার চৌম্বকক্ষেত্রও। ফলে চাঁদের পক্ষে আর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের পরিত্রাতার ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়নি। সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা