kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

স্বাস্থ্যকর্তার সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সচালক বাইরে, আহত নারীর মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আরো চার জেলায় নিহত ৫

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যকর্তার সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সচালক বাইরে, আহত নারীর মৃত্যু

যশোরের মণিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারী সুচিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে মণিরামপুর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রা রানী দেবনাথ অ্যাম্বুল্যান্সচালককে নিয়ে দাপ্তরিক কাজে বের হওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নারীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পারেননি জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। ফলে হাসপাতালের বারান্দায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

মণিরামপুর (যশোর) : মৃত সুফিয়া বেগম (৬৫) মণিরামপুর উপজেলার চান্দুয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ মোড়লের স্ত্রী। গতকাল সকালে তিনি মণিরামপুরের মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ইজি বাইকের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পৌনে ১১টার দিকে দুই পথচারী তাঁকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।

মণিরামপুর পৌরসভার কামালপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবুল আক্তার বলেন, ওই বৃদ্ধার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে তিনি অজ্ঞান ছিলেন। দ্রুত তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর দরকার ছিল। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সচালককে নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কোথায় যেন গেছেন। তাই অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যায়নি। দেড়-দুই ঘণ্টা ধরে বৃদ্ধা মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিলেন। ডাক্তাররাও ভালো চিকিৎসা দেননি। খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বজনরা এসে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট গাড়িতে রোগীকে যশোরে নিতে চান। গাড়িতে বৃদ্ধার অক্সিজেনের দরকার ছিল। হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিচ্ছিলেন না ডাক্তাররা। পরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রা রানীকে ফোন করে সিলিন্ডারের অনুমতি মেলে। কিন্তু হাসপাতালের দোতলা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামাতে নামাতে রোগীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মেয়েরা লাশ বাড়ি নিয়ে যান।

মণিরামপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমন নাগ বলেন, ‘বৃদ্ধার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় বারবার বমি হচ্ছিল। পরে মাথা দিয়ে কিছুটা রক্তক্ষরণ হয়। তাঁকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করার দরকার ছিল। অ্যাম্বুল্যান্সচালক বা বৃদ্ধার স্বজনরা কেউ না থাকায় তা করা যায়নি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, ‘অ্যাম্বুল্যান্সের চালককে নিয়ে ফিল্ডে গিয়েছিলাম। আমি খবর পেয়ে দ্রুত ফিরে এসেছি। তার মধ্যে রোগীর স্বজনরা প্রাইভেট কার ভাড়া করে তাকে যশোরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।’

মুন্সীগঞ্জ : সদর উপজেলার জোরপুকুর পাড়ে গতকাল দুপুরে মিশুকের ধাক্কায় আব্দুল্লাহ নামের এক শিশু (৮) নিহত হয়। সে এলাকাটির নিজাম হাওলাদারের ছেলে।

গোপালগঞ্জ : সদর উপজেলার পাথালিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে শুক্রবার বিকেলে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন ফরিদপুরের দিগনগর গ্রামের ইসাহাক শেখের ছেলে আবু সাঈদ শেখ (২৩) ও সাঈদের শ্যালক গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া গ্রামের লুত্ফর শেখের ছেলে আমিন শেখ (২০)।

জামালপুর : মেলান্দহ উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর চৌরাস্তা মোড়ে গতকাল সকালে ট্রাক্টরের চাপায় কৃষক তোফাজ্জল হোসেন (৭০) নিহত হন। তিনি স্থানীয় মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

কাউখালী : রাঙামাটির কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের কেয়াং ছড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুই শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। নিহত অটোরিকশাচালক মো. কামাল (৩৩) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার ভুট্টাপাড়া গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা