kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ডাকযোগে ভোট নিয়ে বিতর্ক

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডাকযোগে ভোট নিয়ে বিতর্ক

করোনা মহামারিতে গোটা পৃথিবীর মধ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী ডামাডোল। ৩ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের নির্বাচনে দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ ডাকযোগে ভোট দিচ্ছে। আর এ নিয়েই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, ডাক মারফত ভোট হলে তাতে বিপুল কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে। এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে যাচ্ছে রিপাবলিকান নেতৃত্বও; যদিও ডেমোক্রেটিক দলের নেতারা বলছেন, ডাকযোগে ভোট দেওয়া সময়ের দাবি, এই নিয়ম নতুন নয়। এতে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই বলেও দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন মনে করেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার জানিয়েছেন, ভোটের জন্য চূড়ান্ত দিন ঠিক করা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী পদ্ধতি অনুযায়ী এখানে অ্যাবজেন্টি ভোট, আর্লি ভোট বা আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। মানুষ তার সুবিধা অনুযায়ী ভোট দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আগাম ভোট দিতে শুরু করেছে। অনেক অঙ্গরাজ্যে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিচ্ছে তারা। ফলে করোনা মহামারিতে মানুষ বাইরে বের হবে না, এটিও পুরোপুরি ঠিক নয়। এমন দাবি করে রিপাবলিকান সমর্থক প্রিয়তোষ দে বলেন, ‘ডাকযোগে মানুষের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। এটি ওই ব্যক্তিই ভোট দিয়ে সই করে পাঠাচ্ছেন কি না, এ নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।’ এতে একজনের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   

এবার ডাকযোগে ভোটে ভোটারসংখ্যা বেড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সালের গৃহযুদ্ধের সময় থেকে ডাকযোগে ভোটের প্রথা চালু হলেও ট্রাম্পের দাবি, এটি একেবারে নতুন বিষয়।

রাজনীতি বিশ্লেষক মোহাম্মদ মালেক মনে করেন, যারা বাইরে বের হয়ে ভোট দিতে চায়, সেই সুযোগ তো রয়েছেই। কিন্তু করোনার কারণে ডাকভোট নিয়ে এত আপত্তি থাকার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলো এতটাই শক্তিশালী যে এতে জালিয়াতির কোনো সুযোগ দেখেন না তিনি।

তবে নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় টেলিভিশন টিবিএন২৪-এর সঞ্চালক হাবিব রহমান বলেন, ‘ডাকভোট গণনা শেষ হলেও তার ফলাফল নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে, যা গড়াতে পারে আদালত পর্যন্ত। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর মেয়াদেই সুপ্রিম কোর্টের তৃতীয় বিচারপতি মনোনয়ন দিয়েছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে ২২ অক্টোবরের সিনেট ভোটের পর বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ চূড়ান্ত হবে। সে ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে রক্ষণশীল ও উদারপন্থীদের সংখ্যা হবে ৬-৩।’ এ নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

২০০০ সালে ফ্লোরিডার ভোট নিয়ে আল গোর ও জর্জ বুশের সময়কার নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আদালতের রায়ে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী জর্জ বুশ।

মোহাম্মদ এন মজুমদার মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হেরে গেলে তিনি নানা ইস্যুর সঙ্গে ডাকযোগে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেলে ভোটের চূড়ান্ত ফল পেতেও দেরি হতে পারে; যদিও তিনি বলছেন, ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির কোনো প্রমাণ নেই।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, তিন-চতুর্থাংশ রিপাবলিকান সশরীরে আর ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মেইল ইন পদ্ধতিতে ভোট দিতে চান। এই বিষয়টি সামনে এনে নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট শেখ আল মামুন বলেন, ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ায় বাধা দিতেই এমন চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগের কোনো ভিত্তিও নেই বলে মনে করেন তিনি।  আবার অনেকে বলছে, ডাকযোগে ভোট দিলে ভোট গণনায় বিলম্ব হতে পারে। কারণ ডাকযোগে দেওয়া সব ভোট সময়মতো পৌঁছানোর ব্যাপারে নিশ্চয়তা ইউএস পোস্টাল সার্ভিস (ইউএসপিএস) কি দিতে পারবে—এমন প্রশ্নও উঠেছে।

দেশের ৪৬টি রাজ্য সরকার ও ওয়াশিংটন ডিসির নির্বাচন অফিসকে এক চিঠিতে ডাক বিভাগ এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। কেননা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যায় মানুষ যদি ‘মেইল ইন’ বা ডাকযোগে ভোট দেয়, সেই চাপ সামলানো ডাক বিভাগের পক্ষে সম্ভব না-ও হতে পারে। পরে যদিও নির্বাচনে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পরিবহনে ইউএসপিএস ‘সব দিক দিয়ে সক্ষম এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লুইস ডে জয়। ২১ আগস্ট শুক্রবার সিনেটে এক শুনানিতে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

জানা গেছে, সব অঙ্গরাজ্যেই কোনো না কোনোভাবে ডাকযোগে ভোট দেওয়া যায়। তবে অরেগন, উটাহ, হাওয়াই, ওয়াশিংটন ও কলোরাডো—এই পাঁচটি রাজ্যে শতভাগ ভোট ডাকযোগে দেওয়া সম্ভব। বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ডাকযোগের বিধান রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা