kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সবিশেষ

শুকতারায় কি প্রাণ আছে?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুকতারায় কি প্রাণ আছে?

আমরা কি একা এই চরাচরে? অন্য গ্রহে কি আছে প্রাণের বসতি? এই প্রশ্নের তাড়নায় দুনিয়াসুদ্ধ গবেষকরা কত কসরতই না করেছেন। পাহাড়ের ওপর ইয়া বড় টেলিস্কোপ বসিয়ে তাতে চোখ রেখেছেন, মহাকাশ পাড়ি দিয়েছেন, মহাবিশ্বে সংকেতবার্তা পাঠিয়েছেন। রহস্য সমাধান হয়নি। ১৬১০ সাল, ইতালির পাদুয়া শহর। নিজের তৈরি দুরবিনে চোখ রেখে গ্যালিলিও দেখলেন যে শুক্র কেমন যেন দুর্ভেদ্য, মনে হয় ঘন মেঘে ঢাকা, তাই এর মাটি দেখাই যায় না। শুক্রের আকাশে তাহলে ঘন মেঘ? আর মেঘ মানেই বৃষ্টি। তার মানে নিশ্চয়ই শুক্রে খুব বৃষ্টি হয়। তার মানে শুক্রের ভূপৃষ্ঠ ডোবা আর জলাভূমিতে ভর্তি। আর চারদিকে যখন এত জলাভূমি, তখন কি উদ্ভিদ, গাছপালা, পোকা-মাকড় থাকবে না? কল্পবিজ্ঞান নয়, কয়েক শতক ধরে এই বিশ্বাস পোষণ করতেন বিজ্ঞানীরা। বাদ সাধল আধুনিক গবেষণার ফল। বহু চেষ্টা করেও শুক্রের মেঘে-ঢাকা আকাশের ওপরের স্তরে জলীয় বাষ্পের সন্ধান খুব একটা পাওয়া গেল না। বায়ুমণ্ডলে পানি আছে যৎসামান্য, কিন্তু মাটি থেকে ষাট কিলোমিটার ওপরে যে ঘন মেঘ, তা ভর্তি সালফিউরিক এসিডে! এ ছাড়া শুকতারার বায়ুমণ্ডলে ৯৬ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। শুধু তা-ই নয়, শুক্রের মাটি যেন দাউদাউ করে জ্বলছে। তাপমাত্রা ৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার ঘন বায়ুমণ্ডলের চাপ পৃথিবীর ৯০ গুণ! অকাট্য প্রমাণ মিলল সত্তরের  দশকে, যখন শুক্রকে প্রদক্ষিণ করল মার্কিন পাইওনিয়ার মহাকাশযান আর শুক্রের মাটিতে অবতরণ করল সোভিয়েত ভেনেরা মহাকাশযান। সত্যি, শুক্র এমন এক ভয়ংকর নরক, যেখানে কোনো প্রাণীর পক্ষে বাঁচা অসম্ভব। তাহলে কি শুক্র গ্রহে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা একেবারেই নেই? এ বিষয়ে প্রথম আলোকপাত করেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রচারক কার্ল সাগান। ১৯৬৭ সালে তিনি নেচার পত্রিকায় লেখেন, শুক্রের ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৮-৬০ কিলোমিটার ওপরে বায়ুমণ্ডলের পরিবেশ ‘মন্দ নয়’। তাপমাত্রা আর বায়ুমণ্ডলের চাপও পৃথিবীর মতো। এ ছাড়া যথেষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড আছে, সূর্যের আলোর অভাব নেই, এমনকি কিছুটা জলীয় বাষ্প আর মেঘে বরফের কণাও রয়েছে।

গত কয়েক দশকে সাগানের হাইপোথিসিসের সমর্থনে মাঝেমধ্যেই বিজ্ঞানীরা গবেষণা প্রকাশ করেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতেই এসে পড়েছে ব্রিটেনের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেন গ্রিভসের গবেষণাগারের ফল। প্রকাশিত হয়েছে নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে। এই গবেষণা প্রমাণ করল, শুক্রের মেঘের স্তরে ফসফিন গ্যাস আছে। কোন কোন ব্যাকটিরিয়া ফসফিন বানায়, তা অজানা। তবে দেখা গেছে, যেসব পরিবেশে অক্সিজেন একদমই নেই, সেখানেই এদের বাস। যেমন—কাদা, জলাভূমি। এ কারণে শুক্রের মেঘের স্তরে ফসফিন দেখে চমকে উঠেছে বিজ্ঞানীমহল। ফসফিন খুঁজে পাওয়া মানে ওখানে প্রাণের অস্তিত্বের পক্ষে একটা বড় পরোক্ষ প্রমাণ বৈকি।

তবে এই রহস্যের সমাধান করতে হলে শেষ পর্যন্ত শুক্রে মহাকাশযান পাঠাতেই হবে, যেটি নমুনা সংগ্রহ করবে। ২০১৮ সালে উৎক্ষপণ করা একটি ইউরোপীয় ও একটি জাপানি মহাকাশযান এখন বুধের দিকে এগোচ্ছে। যাত্রাপথে সামনের মাসে প্রথমটি এবং আগামী বছর দ্বিতীয়টি শুক্রের পাশ দিয়ে উড়ে যাবে। চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন যদি কিছু পর্যবেক্ষণ চালানো যায়। সব মিলিয়ে অনেক বছর অবহেলিত থাকার পর শুক্র নিয়ে কাহিনি আবার জমজমাট। সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা