kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর চাঁদা দাবি

ছয় দিনে আটজনকে নির্যাতনের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে




সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর চাঁদা দাবি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও ঘটনার ভিডিও করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ‘প্রেমিক’সহ তিনজনের বিরুদ্ধে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীর পরিবারের কাছে চাঁদাও দাবি করেন অভিযুক্তরা। এলাকাবাসী দুই অভিযুক্তকে আটক করলেও একজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন প্রভাবশালীরা।

এ ছাড়া নরসিংদীর মাধবদীতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে (৩২) ধর্ষণ এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সত্বাবার সহায়তায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার চান্দিনায় মাদরাসাছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক। আরো তিন জেলায় তিন শিশুকে ধর্ষণ ও বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। তিন জেলায় ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে তিনজনকে। গত শুক্রবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের গুলগুলিয়াপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে। ঘটনার পর মোহাম্মদ এবাদউল্লাহ (২০) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। তিনি বড় মহেশখালীর গুলগুলিয়াপাড়া এলাকার নবাব আলী মিস্ত্রির ছেলে। এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আরেক অভিযুক্ত খাইরুল আমিনকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন প্রভাবশালীরা। এবাদউল্লাহ ও খাইরুল ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর কথিত প্রেমিক নুরুল হাকিমের বন্ধু। হাকিম গুলগুলিয়াপাড়ার আলী আহমদের ছেলে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নুরুল হাকিম কয়েক মাস আগে স্কুলছাত্রীটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জরুরি কথা আছে বলে ছাত্রীটিকে ফোন করে ঘর থেকে ডেকে নেন হাকিম। পরে তাকে পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে হাকিম ও তাঁর দুই বন্ধু ধর্ষণ এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। পরে ছাত্রীটি বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানায়। এর পরই অভিযুক্তরা মেয়েটির অভিভাবকদের ফোন করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকেন। চাঁদা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ার হুমকি দেন। পরে এলাকাবাসী টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁদের ডেকে নেয়। এ সময় এবাদউল্লাহ ও খাইরুলকে আটক করা হলেও হাকিম পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় মামলা করেছেন কিশোরীটির মা।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মহেশখালী থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ ইমরানুল কবির জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মামলা করেছেন। পরে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। এবাদউল্লাহকে গতকাল আদালত জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।

সত্বাবার সহায়তায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সত্বাবার সহায়তায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক কিশোরী (১৭) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ। ধর্ষণে অভিযুক্ত তিন যুবককে স্থানীয় লোকজন পিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে। পরে ভুক্তভোগী সত্বাবাকে (৩৫) প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুলাউড়ার কোটাগাঁও এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে কাশেম আলী (২৩), গাজীপুর (গাংপাড়) এলাকার আসকর আলীর ছেলে আরজান আলী (২৪) ও ঝন্টু সূত্রধরের ছেলে রাজেশ সূত্রধর (২১) এবং অজ্ঞাতপরিচয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। এজাহার অনুযায়ী, কিশোরীটির বাড়ি নোয়াখালী। সম্প্রতি সে কুলাউড়ায় সত্বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সত্বাবা মেয়েটিকে বেড়ানোর কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে কাশেম আলীর কাছে তিন হাজার ১০০ টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করেন। কুলাউড়া থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। অন্যরা পলাতক।

মানসিক ভারসাম্যহীনকে ধর্ষণ

মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের কবিরাজপুর গ্রামে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতিত নারীর ভাবি বাদী হয়ে রাতে মাধবদী থানায় অভিযুক্ত সোলায়মানকে (৩৫) আসামি করে মামলা করেছেন। সোলায়মান মেহেরপাড়ার কবিরাজপুর গ্রামের মৃত আবদুুল কাদিরের ছেলে ও গরুর খামারের কর্মচারী। পাঁচদোনা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক ইউসুফ আহম্মেদ জানান, গতকাল নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে।

গাজীপুর থেকে বরিশালে নিয়ে ধর্ষণ

মোবাইল ফোনে প্রেমের সূত্র ধরে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত রবিবার গাজীপুর থেকে বরিশালে এনে ‘ধর্ষণ’ করেছেন কথিত প্রেমিক। এ ছাড়া মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছেন প্রধান অভিযুক্তের পাঁচ বন্ধু। এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা বরিশাল এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল খান শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের রামকাঠি এলাকার মোতালেব খানের ছেলে। ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তরা হলেন সবুজ হাওলাদার, মিরাজ হাওলাদার, সাইদুল, সোহেল ও আল-আমিন। বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলি আফরোজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিশোরীটির ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে কিশোরীকে তার মায়ের জিম্মায় দেন। পুলিশ বলছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গত শনিবার শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ ও মঙ্গলবার ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত রজিব উদ্দিন শেখকে (৩০) মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রজিব উপজেলার চোমরপাথালিয়া গ্রামের বাবলু সেখের ছেলে। গতকাল তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মেয়েটির মা শেরপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন রজিব উদ্দিন।

বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

রংপুরের বদরগঞ্জের মধুপুর ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি হলকার ঘর হাফিজিয়া মাদরাসায় সোমবার রাতে এক শিশুকে (৯) ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, অভিযুক্ত মাদরাসাটির শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে (৩০) মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। গতকাল ইসমাইলকে জেলহাজতে পাঠান আদালত। তিনি রংপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হল্লাইপাড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।

কিশোরী ছাত্রীকে শিক্ষকের ধর্ষণ

কুমিল্লার চান্দিনায় ধর্ষণে অভিযুক্ত মাওলানা মো. ইউসুফ সোহাগকে (৪০) গতকাল স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেয়। তিনি দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে এবং চান্দিনায় কুমিল্লা পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জামে মসজিদের ঈমাম ও দারুল ইহসান তাহফিজুল কোরআন কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিম। সর্বশেষ গত সোমবারসহ এক মাস ধরে তিনি কিশোরী ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। মঙ্গলবার তিনি ছাত্রীটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে ছাত্রীর বাবা মানবাধিকারকর্মী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকারের সহায়তায় উদ্ধার করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকসহ মেয়েটিকে থানায় এনেছি। বিস্তারিত জেনে আইনি ব্যবস্থা নেব।’

দু্ই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

?বগুড়ার আদমদীঘিতে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৮) গতকাল সদাই দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সামছুল হক (৩০) নামের মুদি দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামছুল উপজেলার কুন্দগ্রাম গ্রামের চকপাড়ার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দীন জানান, এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। অন্যদিকে নওগাঁর বদলগাছীতে মঙ্গলবার শিশুকে (১২) প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুলাল হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। বদলগাছী থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ বলেন, পলাতক আসামিকে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

ধর্ষণচেষ্টা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

সাতক্ষীরার আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নে শুক্রবার বিকেলে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। নির্যাতিত ছাত্রী মঙ্গলবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। ভারপ্রাপ্ত বিচারক সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান ১০ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তরা হলেন খাজরা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি  কাপসণ্ডা গ্রামের সাকিব বিল্লাহ, একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান উদ্দিন খোকা, আল-আমিন মোড়ল, শুভ এবং চেউটিয়া গ্রামের মামুন হোসেন বাবু ও মজনু সরদার।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]

 

মন্তব্য