kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

ধর্ষণ মামলার আসামি চার শিশু ফিরল মায়ের কোলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

১০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণ মামলার আসামি চার শিশু ফিরল মায়ের কোলে

বুধবার বিকেলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ আমলি আদালত চত্বরে চার শিশু ও তাদের স্বজনের বুকফাটা কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে এই শিশুদের বুকে জড়িয়ে তাদের স্বজনদের কান্নাও ছুঁয়ে গেল উপস্থিত সবাইকে; চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না কেউ। তবে পরের এ কান্নায় ছিল সন্তানদের কোলে ফিরে পাওয়ার আনন্দ।

একটি ধর্ষণ মামলার আসামি এই চার শিশুকে বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েতউল্লাহ যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর তাদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আদালত চত্বর; শিশুরাও কাঁদছিল গলা ছেড়ে। হাইকোর্টের নির্দেশে এই শিশুদের গতকাল শুক্রবার সকালে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী গ্রামে ঘটে এমন অপূর্ব ‘মিলনমেলা’।

মামলার ১ নম্বর আসামির বড় ভাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ভাইকে গ্রেপ্তারের পর আমাদের খাওয়া ও রাতের ঘুম সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওদের ফিরে পাওয়ায় আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।’

ছয় বছরের একটি কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার চার শিশুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে উচ্চ আদালতের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন। যশোরের জেলা প্রশাসককে শিশু

উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ওই চার শিশুকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আদালত আরো আদেশ দেন, বরিশালের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ১১ অক্টোবর (রবিবার) সকাল সাড়ে ১১টায় উচ্চ আদালতে সশরীর হাজির হতে হবে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে ওই চার শিশুকে তাদের অভিভাবকসহ একই তারিখে উপস্থিত থাকতেও বলা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে ভুক্তভোগী কন্যাশিশুর মেডিক্যাল রিপোর্ট হাইকোর্টে পাঠাতে আদেশ দেন আদালত।

শিশু চারটিকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাধবী রায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম প্রমুখ। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের বুকে টেনে নিয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিশুদের ফিরে পেয়ে স্বজনরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ‘মিথ্যা’ অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পালন করেছি। আর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’

জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় ছয় বছর বয়সের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার আসামিরা ওই শিশুটির খেলার সাথি। ৪ অক্টোবর বিকেলে বাগানের মধ্যে খেলার সময় কন্যাশিশুকে তিন আসামির সহযোগিতায় এক আসামি ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলার আসামিদের একজনের বয়স ১১, বাকি তিনজনের বয়স ১০ বছর দেখানো হয়েছে। পরে ৭ অক্টোবর বিকেলে আসামিদের বাকেরগঞ্জ আমলি আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। বিচারক মো. এনায়েতউল্লাহ তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা