kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ছাত্রী ও গৃহবধূ ধর্ষণ জরিমানায় মিটমাট!

বগুড়ার শেরপুরে গ্রাম্য সালিসে দুটি ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ছাত্রী ও গৃহবধূ ধর্ষণ জরিমানায় মিটমাট!

গ্রাম্য সালিসে দুটি ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাতবরদের বিরুদ্ধে। মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৯০ হাজার টাকা এবং গৃহবধূ ধর্ষণে আরেক অভিযুক্তকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে ‘রায়’ দিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি ঘটনা দুটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বড়শিবপুর ও ঝাজর গ্রামে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রাতে নিজের ঘরে ঘুমিয়েছিল। মধ্যরাতে পাশের রামনগর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ছাব্বির হাসান ঘরে ঢুকে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন। মেয়েটির চিৎকারে লোকজন এসে ছাব্বিরকে আটক করে। পরে একই গ্রামে গাড়িদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দবিবুর রহমানের বাড়িতে ছাব্বিরকে আটকে রাখা হয়। পরদিন সেখানে সালিস করেন মাতবররা। জরিমানার মাধ্যমে এ ঘটনার মীমাংসা করা হয়।

সালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গ্রাম্য মাতবর আব্দুল মোমিন। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানসহ অন্য গ্রাম্য মাতবররা বিচার করেছেন। সে অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগী মেয়ের বাবাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এসবের মধ্যে নেই বলে দাবি করেন আব্দুল মোমিন। তিনি বলেন, গ্রামের লোকজন এসব করেছে। বাকি ৩০ হাজার টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে।

তবে গাড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দবিবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি আমার গ্রামের, তাই শুনেছি। এ ছাড়া আমি কোনো বিচার-সালিস করিনি। এমনকি সেখানে উপস্থিতও ছিলাম না। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমার তেমন কিছুই জানা নেই।’

অন্যদিকে গত ১ অক্টোবর রাতে ঝাজর গ্রামের দিনমজুরের বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আজিমুদ্দিনের ছেলে হেলালুদ্দিন। পরদিন সালিসে গ্রাম্য মাতবর সোলায়মান আলী, সেলিম রেজা, ফারুক হোসেন, আজিজ ও টুনু অভিযুক্তকে জুতাপেটা করেন। কিন্তু এই বিচার মানতে অস্বীকার করেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী। পরে গ্রাম্য মাতবররা আবারও বৈঠক করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বড়শিবপুর গ্রামের ঘটনার কথা শুনেছি। তাদের (ভুক্তভোগীর পরিবার) থানায় অভিযোগ করতে আসার কথা। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্য ঝাজর গ্রামের ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই দাবি করে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে এ সম্পর্কে বলা সম্ভব হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা