kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

হাঁপ ছাড়তে মানুষ ছুটছে পর্যটনকেন্দ্রে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাঁপ ছাড়তে মানুষ ছুটছে পর্যটনকেন্দ্রে

কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনা সদরকে সংযুক্ত করা ‘আবুরা’ সড়ক হয়ে উঠছে পর্যটনের অন্যতম ক্ষেত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা মহামারির কারণে দেশের প্রায় সব পর্যটনকেন্দ্র টানা কয়েক মাস বন্ধ ছিল; মানুষ ছিল একরকম ঘরবন্দি। এই কয়েক মাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার একটা ক্ষুধা পেয়ে বসেছিল ঘরবন্দি মানুষের। পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় সেই ক্ষুধা মেটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো হয়ে উঠেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘মানুষময়’। কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি অনেক বেড়ে গেছে। হাওরে নতুন পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে ‘অল-ওয়েদার রোড’ বা ‘আবুরা সড়ক’। পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে সোনারগাঁয়ের বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনসহ দেশের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও।

বিশেষ প্রতিনিধি (কক্সবাজার) জানান, শীতের আগেই কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামতে শুরু করেছে। অনেকেই বলছে, এবারের শীতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। সে জন্য আগেভাগে অনেকেই কাছের মানুষদের নিয়ে সৈকতে ঘুরতে এসেছে।

মোহাম্মদ সোহেল নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার ১০টি স্টুডিও ফ্ল্যাট রয়েছে। আজ (শুক্রবার) সব কটি ভাড়া হয়ে গেছে।’ সাগরপারের সি ওয়ার্ল্ড হোটেলের মহাব্যবস্থাপক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ‘সপ্তাহের অন্যান্য দিন পর্যটকের তেমন ভিড় না থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে পর্যটক আসছে। আমার হোটেলের অর্ধেকেরও বেশি কক্ষ আজ (শুক্রবার) সকালের মধ্যে ভাড়া হয়ে গেছে।’

গতকাল সৈকতে গিয়ে পর্যটকের ভিড় দেখা যায়। ভোরেই অনেক পর্যটক সাগরে গোসল করতে নেমে পড়ে।

এদিকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনেও পর্যটকের আনাগোনা বেড়ে গেছে। কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদী থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর দ্বীপে যাতায়াত শুরু করেছে পর্যটকবাহী জাহাজ কর্ণফুলী।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের আগমন বেড়ে গেছে। সৈকত থেকে শুরু করে দর্শনীয় স্পট লেম্পুচর, ঝাউবন, গঙ্গামতি ও কাউয়ারচর পর্যটকের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে। কুয়াকাটার সব হোটেল-মোটেলেও পর্যটকের ভিড়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত দুই দিন শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। দুপুর পর্যন্ত রোদের কারণে সৈকতের বালু উত্তপ্ত থাকে। এ কারণে বিকেল থেকে পর্যটকের দখলে চলে যায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের সব স্পট।

কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকের আগমন এক মাস ধরে বাড়ছে। এ কারণে আমাদের বেচাবিক্রিও বেড়েছে।’ কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল খেপুপাড়ার মালিক রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার হোটেলে ১৫টি কক্ষ। ১২টি ভাড়া হয়ে গেছে। বাকিগুলোও ভাড়া হয়ে যাবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক (হাওরাঞ্চল) জানান, নতুন পর্যটন এলাকা হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল। সারা বছর চলাচল উপযোগী অল-ওয়েদার রোড বা ‘আবুরা’ সড়ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে হাওরে পর্যটনশিল্প বিকাশের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। হাওরের তিন উপজেলা অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনা সদরকে সংযুক্ত করেছে এ সড়ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি উদ্বোধন করেন।

বেশ কয়েক বছর ধরেই হাওরপারের নিকলী বেড়িবাঁধ পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে বর্ষায় ঢল নামে মানুষের। বাজিতপুরের পাটুলীতে ঘোড়াউত্রা নদীর পারের নয়নাভিরাম দৃশ্যপট পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, অবসাদ কাটাতে অনেকেই বেড়াতে আসছে সোনারগাঁয়ের বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মাজারসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এসেছে। পানাম নগরীতেও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহ জানান, পর্যটকের উপস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে আস্তে আস্তে বাড়ছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) সাংবাদদাতা জানান, সেখানে বেশ কয়েকটি বেসকারি বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। করোনা মহামারির কারণে এত দিন সেগুলো বন্ধ ছিল, কিন্তু এখন খুলে দেওয়ায় মানুষের উপস্থিতি আস্তে আস্তে বাড়ছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় বেশি থাকে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা