kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

হাসপাতাল ছেড়ে শোভাযাত্রা

তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ নাটকীয়তা। ‘চমক’ তাঁর নিত্যসঙ্গী। এ ক্ষেত্রে স্থান, কাল, পাত্র বিষয় নয়। এ কারণেই কভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও সেখান থেকেই মানুষকে চমকে দিয়েছেন ট্রাম্প। হাসপাতাল থেকে গাড়ির শোভাযাত্রাসহ বের হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে আর প্রচুর ছবি তুলে তিনি আবার হাসপাতালে প্রবেশ করেছেন। জানার চেষ্টা করেননি, একজন করোনাভাইরাস রোগী চালক ও গোয়েন্দা কর্মীসহ নেহাত বিনোদনের জন্য বাইরে বেড়িয়ে আসার অর্থই হচ্ছে, বাকি সুস্থদেরও ঝুঁকির মুখে ফেলা। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্তম্ভিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জুড ডিয়ার অবশ্য বলছেন, হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়েই রবিবার বেড়াতে বের হয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর গাড়ি বুলেটপ্রুফ, রাসায়নিক হামলাপ্রুফ। ভেতর থেকে জীবাণু বের হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। গত তিন দিনে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা রকম আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, ট্রাম্পের নিজের টুইট ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতামত—সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্টের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়, যা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও বিরক্ত হয়েছেন। সেসব কাটাতে টুইটারে ঘোষণা দিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে আসেন তিনি। কিন্তু এই স্টান্টবাজি প্রশংসিত হওয়া তো বহুদূর, তাঁর দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, কভিডে আক্রান্ত হওয়ার পরও একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কিভাবে এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কাজ করতে পারলেন ট্রাম্প। তাতে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। করোনা পজিটিভ হওয়ার পর গত শুক্রবার সামরিক হাসপাতাল ওয়াল্টার রিডে ভর্তি হন ট্রাম্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও করোনা পজিটিভ। তবে স্বল্প লক্ষণ থাকায় তিনি হোয়াইট হাউসেই অবস্থান করছেন।

রবিবার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। মুখে মাস্ক। সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে উঠে পড়লেন। এরপর সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে সেখান থেকে বেরিয়েও গেলেন। যদিও পরে আবার হাসপাতালেই ফিরে এসেছিলেন তিনি। ওই দিনই টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে দেখা যায়, ‘কভিডের চিকিৎসা চলাকালে অনেক কিছুই শিখলাম, জানলাম। এটাই আসল বিদ্যালয়। বিষয়টি ভালোভাবে আত্তীকরণ করেছি।’ সিএনএন এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলে, প্রেসিডেন্ট কী শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তা তাঁর আচরণ থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। যখন কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক, তখন প্রেসিডেন্ট হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ছবি তুলে বেড়াচ্ছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান চিকিৎসক রবার্ট ওয়াচারের মতে, ট্রাম্পের যে ধরনের উপসর্গ ধরা পড়েছে, তাঁর কোনো রোগীর এমন উপসর্গ ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিনের মধ্যে বাইরে যাওয়ার অনুমতি কোনোভাবেই দিতেন না। ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক উইলিয়াম স্যাফনার বলেছেন, ‘এই ঘটনার পেছনে চিকিৎসকরা দায়ী নন, প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর রাজনীতিক সঙ্গীদের চাপেই হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিক্যাল এথিকস অ্যান্ড হেলথ পলিসি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ একে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প তাঁর গাড়ির চালক ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যকে ঝুঁকির মুখে ফেললেন। কিসের জন্য? নেহাতই স্টান্টবাজি। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য হাকিম জাফরিজ বলেন, ‘আমাদের নেতৃত্বের প্রয়োজন। ছবি তোলার সুযোগ খুঁজে বেড়ানো ব্যক্তির নয়।’

মেলানিয়া হাসপাতালে যাবেন না

স্বামীকে দেখার জন্য ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে হাসপাতালে যাবেন না ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ কথা জানায় মার্কিন গণমাধ্যম। গত শনিবার ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ফার্স্ট লেডি কভিড পজিটিভ। যে চালক তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন এবং হাসপাতালের যেসব কর্মী মেলানিয়াকে প্রেসিডেন্টের কাছে নিয়ে যাবেন, সবাই ঝুঁকির মুখে পড়বেন।’

ট্রাম্প যেমন আছেন

হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক শন কনলে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের কিছু অসুস্থতা রয়েছে। তবে আমি উদ্বেগ বাড়াতে চাই না। এ ধরনের অসুখে মানুষ হঠাৎ করে গুরুতর পরিস্থিতিতে পড়ে যেতে পারে।’ প্রেসিডেন্টকে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ডেক্সামেথাসন দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট জিংক, ভিটামিন ‘ডি’র পাশাপাশি রেমডেসিভিরও নিচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচার

ট্রাম্পের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গোড়াতে দুই দলের জন্যই ধাক্কা হিসেবে আসে। মজার বিষয় হচ্ছে, এ ধাক্কা প্রথমেই কাটিয়ে ওঠে ট্রাম্পের সমর্থকরা। গত রবিবার থেকেই তাদের প্রচার শুরুর কথা ছিল। নির্বাচনের আর মাত্র ২৮ দিন হাতে রেখে তারা সময় নষ্ট করতে আগ্রহী নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স গত রবিবার থেকেই দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে সফর শুরু করেছেন। আগামীকাল বুধবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের সঙ্গে প্রথম বিতর্কে নামবেন তিনি।

রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন একটু দেরিতে প্রচার শুরু করলেন। গতকাল সোমবার তিনি ফ্লোরিডার মিয়ামিতে যান। গত মঙ্গলবারই ট্রাম্পের সঙ্গে একই বিতর্কে অংশ নিয়েছেন বাইডেন। গত রবিবার তিনি আবারও করোনা পরীক্ষা করান। ফল নেগেটিভ আসে।

এদিকে প্রেসিডেন্টের করোনা ধরা পড়ার পর পরিচালিত নানা জরিপে দেখা গেছে, এগিয়ে আছেন বাইডেন। এবিসি নিউজ/ইপসস পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করে, করোনাকে প্রেসিডেন্ট যথাযথ হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেননি। সিবিসির জরিপে বাইডেন ৭ পয়েন্টে এগিয়ে। আর রয়টার্সের জরিপে দুই অঙ্কের সংখ্যায় এগিয়ে আছেন বাইডেন।

মন্তব্য