kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিদেশযাত্রা বাড়ছে কমছে সংক্রমণ

চট্টগ্রামে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার বিশ্লেষণ : ৭২ দিনে ১৬ হাজার ৬৬৬ নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভের হার ২.৩%

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বিদেশযাত্রা বাড়ছে কমছে সংক্রমণ

করোনা মহামারির কারণে প্রবাসীদের অনেকেই গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে ফেরেন। করোনা পরিস্থিতিতে বিদেশ যাওয়ার হারও তলানিতে ঠেকেছিল। পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা পাল্টানোর ফলে আড়াই মাস ধরে আবার বিদেশযাত্রা শুরু হয়েছে।   

এ কারণে চট্টগ্রামে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ৫৭৪ বিদেশগামীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে নমুনা পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করছেন ২৩১ বিদেশগামী। এদিকে নমুনা পরীক্ষায় বিদেশগামীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও কমছে করোনা পজিটিভের সংখ্যা।

চট্টগ্রামে গত ২০ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিন ৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এর পর থেকে সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭২ দিনে চট্টগ্রামে ১৬ হাজার ৬৬৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ আসে ৩৮৩ বিদেশগামীর। সেই হিসাবে করোনা পজিটিভের হার ২.৩ শতাংশ।

চট্টগ্রাম থেকে বিদেশগামীদের সবচেয়ে বেশি করোনা পরীক্ষা হয়েছে গত ২৯ দিনে। গত ৭২ দিনে মোট নমুনা পরীক্ষার ৫৫.৮৩ শতাংশ পরীক্ষা হয়েছে এই মাসের ২৯ দিনে। তবে পজিটিভের হার আগের ৪৩ দিনের চেয়ে কমেছে। প্রথম ৪৩ দিনে নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে পজিটিভের হার ছিল ৩.৬১ শতাংশ। আর পরবর্তী ২৯ দিনে পজিটিভের হার ১.৩৬ শতাংশ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৭২ দিনের মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ ৫৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। ওই দিন ৯ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। আর এ পর্যন্ত গত ১৬ আগস্ট এক দিনে সর্বোচ্চ ২৭ জনের করোনা পজিটিভ আসে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে পজিটিভের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে।

চট্টগ্রামে বিদেশগামীরা করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করছেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। সেখানের দুটি বুথে নিবন্ধনের কাজ চলছে। নিবন্ধনের পর যাত্রীরা পাশের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নির্দিষ্ট বুথে নমুনা দেন। এরপর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এবং বিআইটিআইডি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার পর প্রতিবেদন যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। এ কার্যালয় থেকে করোনা পরীক্ষার সনদ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের নেগেটিভ আসছে তাঁরা বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পজিটিভ এলে ফের নমুনা পরীক্ষা করছেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা কার্যাক্রমের সমন্বয়ক জেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে আমরা প্রায় ৫০ জন এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এ কাজ করতে হয়। দিন দিন বিদেশগামীর সংখ্যা বাড়ছে। এরই মধ্যে নিবন্ধন বাবদ পাওয়া তিন কোটি ৯০ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।’

সুজন বড়ুয়া জানান, এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জন্য মাত্র দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের চেয়ে খুবই কম। আগামী এক বছরের জন্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা