kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী

প্রবাসী কর্মীদের বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রবাসী কর্মীদের বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ

করোনার কারণে বাংলাদেশে ফিরে আসা প্রবাসী কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কে এক সপ্তাহের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দেশের মানবসম্পদের জন্য নতুন বাজার খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে বৈঠকে অংশ নেন। সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা বিভাগ থেকে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলো জানান।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ফলে কর্মসংস্থান বাড়াতে করণীয় বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভা বৈঠকে কভিড-১৯ মহামারিকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করার সময় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, ২০১৯ সালে সাত লাখ ১৫৯ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়, লক্ষ্য ছিল সাত লাখ এক হাজার। চলতি বছর লক্ষ্য ছিল সাড়ে সাত লাখ। করোনার কারণে গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ২৭৩ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। গত বছর এই সময় পর্যন্ত চার লাখ ছয় হাজার ৯৬২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেকর্ড ১৮ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাওয়া যায়। এটা গত বছরের তুলনায় ৯.৬ শতাংশ বেশি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জন কর্মী দেশে এসেছেন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৮৬ জন ট্রাভেল পাস নিয়ে ফেরত এসেছেন। তাঁদের আবার ফিরে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রায় এক কোটির মতো মানুষ বাইরে থাকেন বা কাজ করেন।

গতকাল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ২৫ শতাংশের বেশি খণ্ডকালীন (পার্টটাইম) শিক্ষক রাখা যাবে না। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ পরিচালনায় নতুন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে ৩৬টি এবং ডেন্টাল কলেজ একটি। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ৭০টি মেডিক্যাল কলেজ এবং ২৬টি ডেন্টাল কলেজ আছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের প্রত্যেক বিভাগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১ঃ১০। এসব প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এ ছাড়া রিজার্ভ ফান্ডে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোকে তিন কোটি টাকা এবং ডেন্টাল কলেজগুলোকে দুই কোটি টাকা রাখতে হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ করতে কমপক্ষে দুই একর জমি এবং অন্য জায়গায় স্থাপন করলে চার একর জমি থাকতে হবে।

গতকাল ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। তবে মন্ত্রিসভা বৈঠকের আগে বা পরে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন সম্পর্কিত কোনো আয়োজন ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে যেকোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বারণ ছিল। তবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সুস্থ থাকা ও সফলতার জন্য দোয়া করেছেন।

প্রয়োজনে পরামর্শ : করোনার মধ্যে প্রায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তাদের অধিক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া আছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা বিবেচনা করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চায়, তখন তাদের পরামর্শ দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা